ছেঁড়া কাপড়ে রক্ত মেখে দাঁড়িয়ে ছিলাম: ট্রাম্পকে ধর্ষণের অভিযোগে কাঠগড়ায় তুললেন প্রাক্তন ‘মিস সুইৎজারল্যান্ড’

By Suman Debnath

October 27, 2026 7:00 PM

ছেঁড়া কাপড়ে রক্ত মেখে দাঁড়িয়ে ছিলাম: ট্রাম্পকে ধর্ষণের অভিযোগে কাঠগড়ায় তুললেন প্রাক্তন ‘মিস সুইৎজারল্যান্ড’


ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump) বিরুদ্ধে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ। এ বার প্রাক্তন মিস সুইৎজারল্যান্ড (Former Miss Switzerland) বিয়াত্রিস কিউল (Beatrice Keul) অভিযোগ করেছেন যে, ১৯৯৩ সালে নিউ ইয়র্কের প্লাজা হোটেলে তাঁকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করেছিলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির ডেমোক্র্যাট (Democrats) সদস্যদের প্রকাশিত একটি রিপোর্টে এই তথ্য সামনে আসতেই মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের (Jeffrey Epstein) মানবপাচার চক্রের তদন্তের সূত্র ধরেই প্রকাশ্যে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট।

ফাঁদ পাতা হয়েছিল সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায়

ওই প্যানেল রিপোর্ট অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেফরি এপস্টিন-সহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ‘ডোনাল্ড জে ট্রাম্প আমেরিকান ড্রিম পিজ্যান্ট’ মঞ্চকে (Donald J Trump American Dream Pageant) ব্যবহার করতেন শিকার ধরার ফাঁদ বা ‘হান্টিং গ্রাউন্ড’ হিসেবে। ১৬ থেকে ২২ বছর বয়সি তরুণীদের শিক্ষা, বিদেশ ভ্রমণ ও কেরিয়ারের টোপ দিয়ে সেখানে আনা হতো। ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে আটলান্টিক সিটি এবং নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন মডেল ও ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রফেশনাল বিয়াত্রিস কিউল। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৪।

কী ঘটেছিল নিউ ইয়র্কের প্লাজা হোটেলে?

আরও পড়ুন:  রসায়নে নোবেল কাগান ও সোয়াইকে, অণুর ‘ডান-বাঁ হাত’ রহস্যের সমাধান

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নিউ ইয়র্কের প্লাজা হোটেলে (Plaza Hotel) একটি প্রেস লাঞ্চ চলাকালীন ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম আলাপ হয় বিয়াত্রিসের। ট্রাম্প তাঁকে ভিসা এবং নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে (NYU) ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। জেফরি এপস্টিনও তাঁকে একই রকম প্রস্তাব দেন এবং ট্রাম্পের মার-এ-লাগো (Mar-a-Lago) এস্টেটে একটি পার্টিতে আমন্ত্রণ জানান।

এরপর, ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি বিয়াত্রিসকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করার জন্য উপরে একটি সুইটে নিয়ে যান। কেরিয়ার এগোবে, এই আশায় সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ, সুইটের দরজা বন্ধ হতেই পিছন থেকে বিয়াত্রিসকে জাপটে ধরেন ট্রাম্প এবং তাঁকে ধর্ষণ করেন। বিয়াত্রিসের বিবরণে, ওই হামলা এতটাই ‘নৃশংস’ (Brutal) ছিল যে তাঁর পোশাক ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তপাত হতে শুরু করে। এরপরেও নাকি ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টোপ দিয়ে তাঁকে চুপ থাকতে বলেছিলেন ট্রাম্প।

আরও পড়ুন:  পর পর ২ বার প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন, তারপরেও মৃত্যু হল না আমেরিকার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির

 হোয়াইট হাউসের কড়া প্রতিক্রিয়া

স্বাভাবিকভাবেই, এমন মারাত্মক অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস (White House)। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস সম্পূর্ণ রিপোর্টটিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, কোনও অভিযোগই সত্য নয়। বরং তাঁর দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সাফল্য থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতেই ডেমোক্র্যাটরা এই মরিয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে এই মুহূর্তে ট্রাম্পের কোনও সম্পর্ক নেই এবং এই ঘটনায় কখনও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলাও দায়ের হয়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে লেখিকা ই জিন ক্যারলকেও (E Jean Carroll) যৌন হেনস্থার দায়ে সিভিল জুরির বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে মিডটার্ম বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের দোরগোড়ায় নতুন এই অভিযোগ তাঁর ভাবমূর্তিতে নতুন করে আঁচড় কাটতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment