---Advertisement---

মেসিদের কোনোরকম আক্রমণ করলেই সোজা ডিপোর্ট

By Suman Debnath

July 31, 2026 5:35 PM

মেসিদের কোনোরকম আক্রমণ করলেই সোজা ডিপোর্ট

---Advertisement---


সদ্য শেষ হওয়া ফিফা বিশ্বকাপের খেলার মাঠে খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক হচ্ছে। এছাড়াও রাজনৈতিক বার্তা পাঠানো এবং বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ উঠেছে। এই সব কারণে আর্জেন্টিনা সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। সেদেশের প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেইয়ের প্রশাসন একটি নতুন ডিক্রি জারি করেছে। এই ডিক্রির লক্ষ্য বিদেশীরা। কেউ যদি আর্জেন্টিনা বা এর নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ায়, তাহলে তাকে সরাসরি দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম রেডিও মন্টে কার্লো প্রথম এই খবরটি সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ডিক্রির লক্ষ্য মূলত সেই বিদেশী নাগরিক, যারা লিখিত বা মৌখিকভাবে বিদ্বেষমূলক বার্তা ছড়াবে। কিংবা সামগ্রিকভাবে আর্জেন্টিনীয় জাতি বা জাতীয়তার কারণে কোনও নির্দিষ্ট নাগরিকের বিরুদ্ধে হিংসা উসকে দেবে। দোষী প্রমাণিত হলেই তাদের অবিলম্বে দেশ থেকে তাড়ানো হবে।

চলতি বছরের ফিফা বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হয়েছে আর্জেন্টিনা। স্পেনের বিরুদ্ধে হাই-ভোল্টেজ ফাইনালে হারের যন্ত্রণার পাশাপাশি জুটেছে একরাশ সমালোচনা। পরাজয়ের পর মেজাজ হারান দলের খেলোয়াড়রা। প্রতিপক্ষের সঙ্গে রীতিমতো শারীরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং নাহুয়েল মোলিনা। এই অনভিপ্রেত আচরণের জন্য তাঁরা ফিফার কড়া নজরে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই এই দুই ফুটবলার এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলারক্ষার তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা।

আরও পড়ুন:  মার্কিন-ইজরায়েল হামলার পর খামেনির বাসভবনের ভিতরের ক্ষয়ক্ষতির প্রথম ফুটেজ প্রকাশ করল ইরান

বিতর্ক এখানেই থামেনি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে ফেঁসেছে আর্জেন্টিনা। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের বিবাদ দীর্ঘদিনের। ওই দ্বীপটি ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা তাকে ‘ইসলাস মালভিনাস’ বলে দাবি করে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের পর ফুটবলাররা একটি বিশাল ব্যানার তুলে ধরেন। সেখানে লেখা, ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ অর্থাৎ ‘মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’। এ ছাড়া বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণের অভিযোগে কাঠগড়ায় খোদ আর্জেন্টিনীয় ফুটবল সংস্থাও। তাদের বিরুদ্ধেও আলাদা তদন্ত চলছে।

ডিক্রি জারির নেপথ্যে সাম্প্রতিক ‘আর্জেন্টিনা-বিরোধী প্রচার’-কে তুলে ধরেছে সরকার। নির্দিষ্ট কোনও ঘটনার কথা সরাসরি না বললেও, বিশ্বকাপের পরের পরিস্থিতিই যে এর প্রধান কারণ, তা একেবারে স্পষ্ট। ‘গোল ডট কম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মিলেই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, ‘যে বা যারা প্রজাতন্ত্র আর্জেন্টিনাকে আক্রমণ করবে, আমাদের দেশে তাদের কোনও জায়গা নেই, তারা স্বাগত নয়।’

আরও পড়ুন:  ভারতীয় এইচ-১বি কর্মীদের জন্য সুখবর, মার্কিন সিনেটে নতুন বিলে সহজ হচ্ছে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ

পাশাপাশি, ব্রাজিল ও মেক্সিকো সরকার এবং মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন মিলেই। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, কোনও প্রমাণ ছাড়াই এই দেশগুলি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর জন্য আর্থিক মদদ দিচ্ছে।

এই নতুন ডিক্রিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়নি। আদর্শগত মতপার্থক্য এবং রাজনৈতিক, নাগরিক বা শিক্ষাগত সমালোচনা এই ডিক্রির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। কারণ দেশের সংবিধান নাগরিকদের সেই অধিকার সুনিশ্চিত করে।

‘জরুরি ও প্রয়োজনীয় ডিক্রি’ হিসেবে এটি জারি হলেও, এর ভবিষ্যৎ এখনও ঝুলে। এটি কার্যকর করতে হলে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের বিস্তারিত পর্যালোচনার পর অনুমোদন জরুরি। দুই কক্ষ একসঙ্গে খারিজ না করা পর্যন্ত অবশ্য এই অধ্যাদেশ বাতিল হবে না।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment