গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের অস্ত্র সমর্পণে যাবে না বলে জানিয়েছে হামাস। গোষ্ঠীটির অন্যতম মুখপাত্র ও আলোচক দলের সদস্য গাজী হামাদ বলেছেন, ইসরায়েলি সেনা উপস্থিত থাকাকালে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
বৃহস্পতিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাজী হামাদ বলেন, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনারা পুরোপুরি সরে যাওয়ার পরই অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, এ প্রক্রিয়া ফিলিস্তিনের একটি জাতীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতে হবে এবং এতে ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দাবি করেন, কায়রোতে মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার সময় হামাস অস্ত্র সমর্পণসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়েছে। তিনি এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তবে ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের পর আলজাজিরাকে গাজী হামাদ জানান, হামাস চুক্তির খসড়া হাতে পেলেও এখন পর্যন্ত তাতে স্বাক্ষরের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরদিন থেকে গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। দীর্ঘ সংঘাতের পর উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও নিরস্ত্রীকরণ, জিম্মি বিনিময় এবং সেনা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি
আমার বাঙলা/ তালহা
Leave a Comment