বিশিষ্ট আইনজীবী তথা সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে কদিন আগে হামলা হয়েছিল। এই হামলার পর বিকাশবাবু অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর বাড়িতে হামলার পিছনে ‘হিন্দুত্ববাদী’রাই জড়িত। আর সেটা প্রমাণিত। সমাজমাধ্যমেও এমন অভিযোগ পোস্ট করেছিলেন তিনি। এই ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দবন্ধ মুছে ফেলার জন্য ডেডলাইন দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া ৪৮ ঘণ্টা ডেডলাইন এখন শেষ। তারপরও নিজের পোস্ট মুছলেন না বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। বরং সাফ জানিয়ে দিলেন, শব্দটি তিনি প্রত্যাহার করবেন না। উল্টে মুখ্যমন্ত্রীকে এই অধিকার কে দিয়েছেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা।
রবিবার হিন্দুত্ববাদীদের দায়ী করার অর্থ হিন্দু ধর্মের অপমান করা নয় বলেও মনে করেন তিনি। সেটাও সংবাদমাধ্যমে বলেছেন বিকাশরঞ্জন। যারা বিকাশবাবুর বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল তারা যে ভাষা ব্যবহার করেছিল তার ভিত্তিতেই এমন মন্তব্য করে ছিলেন তিনি। তার সঙ্গে যে ছবি ধরা পড়েছিল এবং হুমকি দেওয়া হয়েছিল সেটাই তার কাছে এমন মন্তব্য করার ক্ষেত্রে বড় প্রমাণ হিসাবে বিবেচিত হয়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী যে ডেডলাইন দিয়েছিলেন সেটা শেয হয়ে গিয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠছে, ওই শব্দবন্ধ কি মুছবেন না সিপিএম নেতা? জবাবে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমে সুর চড়িয়ে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে এই অধিকার কে দিয়েছে আমি জানতে চাই? আগে মুখ্যমন্ত্রী অধিকারের পক্ষে যুক্তি হাজির করুন।’
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সকালে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের যাদবপুরের বাড়িতে হামলা করে কয়েকজন দুষ্কৃতী। মুখে কাপড় বাঁধা ছিল। কাচের বোতল, পাথর ছুড়ে বাড়ির জানালা ভাঙা হয় বলে অভিযোগ। এই কাজ হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের বলে অভিযোগ তুলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন বিকাশবাবু। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে দু’জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তারপর বিকাশবাবুর ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দ নিয়ে আপত্তি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রকাশ্য জনসভা থেকে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে জানান, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই শব্দটি ফেসবুক থেকে প্রত্যাহার করতে হবে বিকাশরঞ্জনবাবুকে।
অন্যদিকে এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে বেশ ঝড় বয়ে যায়। তার মধ্যে রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর ডেডলাইন শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় বিশিষ্ট আইনজীবী। তাই এদিন সরাসরি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য পাল্টা বলেন, ‘আমি কেন পোস্ট থেকে ওই শব্দটা ডিলিট করব? অপরাধ করেছে ওরা। হিন্দুত্ববাদ প্রকৃতপক্ষে একধরনের গুন্ডামির তত্ত্ব। আর হিন্দুত্ব বহুত্ববাদ, সকলকে গ্রহণের তত্ত্ব। ওরা প্রকৃতপক্ষে হিন্দু ধর্মেরই বিরোধী। হিন্দু ধর্ম এবং হিন্দুত্ব দুটি পরস্পর বিরোধী জিনিস। হিন্দু ধর্মকে ধ্বংস করছে হিন্দুত্ববাদ। যাঁরা যথার্থ হিন্দু তাঁদের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদের সম্পর্ক থাকতে পারে না। হুঁশিয়ারি গুণ্ডামি করে রাজনৈতিক জীবন চলছে ওদের। সাংবিধানিক বোধ যখন তৈরি হবে ভাষা পাল্টে যাবে। তখন যদিও ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’
Leave a Comment