বীরভূমের বহুচর্চিত কোটি টাকা ও সোনা উদ্ধারের মামলায় তদন্তে নতুন মোড়। পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় শেখ ওয়াসিমকে শিলিগুড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, নেপালে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল সে। উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদ অর্থ ও সোনার সঙ্গে তার ভূমিকা কী ছিল, এখন সেই দিকেই জোর দিচ্ছে তদন্তকারী দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ি থেকে ওয়াসিমকে আটক করার পর বীরভূম জেলা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে রামপুরহাটে নিয়ে আসা হয়। শনিবার সকালে রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয় অভিযুক্তকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর।
তদন্তকারীদের দাবি, গত বুধবার টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের ডেউচা গ্রামের বাড়ি থেকে প্রায় ২৮.৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই একাধিক ব্যক্তির সন্ধান শুরু হয়। সেই তদন্তেই উঠে আসে শেখ ওয়াসিমের নাম। গত কয়েক দিন ধরে তাঁর খোঁজ চালাচ্ছিল পুলিশ।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি হয়ে নেপালে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ওয়াসিম। তবে পুলিশের নজর এড়াতে পারেননি তিনি। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, মিনার মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওয়াসিমের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং তারপরই অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার মিনার মণ্ডলকে গ্রেফতার করার পর তিনি দাবি করেছিলেন, টুলু মণ্ডল নিজের সম্পত্তির দেখভালের দায়িত্ব তাঁর উপর দিয়েছিলেন। উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদ অর্থ ও সোনার প্রকৃত উৎস কী, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন এই সম্পদের সঙ্গে পাথর ব্যবসা, আর্থিক অনিয়ম কিংবা অন্য কোনও বেআইনি লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না।
মিনারের মহম্মদবাজারের ডেউচা গ্রামের বাড়ির পাশাপাশি সিউড়ি এবং সোঁৎশালের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। যদিও সেই অভিযানে কী উদ্ধার হয়েছে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তদন্তকারীদের দাবি, টুলু মণ্ডলের ব্যবসায় সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় বা জোরপূর্বক জমি দখলের মতো অভিযোগের দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita)-র ৪০৯ ধারা (সরকারি সম্পত্তি লুট সংক্রান্ত অভিযোগ) এবং ১১১ ধারা (সিন্ডিকেট অপরাধ) অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই টুলু মণ্ডলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। তবে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি পলাতক বলে দাবি পুলিশের। তাঁর খোঁজে তল্লাশি এখনও অব্যাহত।
Leave a Comment