মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-কে লক্ষ্য করে কথিত হামলার ষড়যন্ত্র মামলার তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক নতুন তথ্য। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত হামিম মণ্ডলকে জেরা করে তদন্তকারীদের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপটেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। ডিজিটাল মাধ্যমে চরমপন্থায় প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর দাবি, হামিমের সঙ্গে পাকিস্তানের ‘শেহজাদ ভাট্টি’ গোষ্ঠীর যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সীমান্তের ওপার থেকে আসা নির্দেশ অনুসারে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেন। সেই তথ্য কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল, তা এখনও তদন্তের বিষয়।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, হামিম নিয়মিত এনক্রিপটেড মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কথোপকথন চলত বলে দাবি করা হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে কয়েকটি নির্দিষ্ট হ্যান্ডেলও সে অনুসরণ করত বলে জেরায় উঠে এসেছে।
এই তদন্তে উঠে আসা তথ্য সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলির অতীতে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ ও মতাদর্শ প্রচারের কৌশল নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন উগ্রপন্থী সংগঠন অতীতে এনক্রিপটেড যোগাযোগ, অনলাইন প্রচার এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নতুন সদস্যদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, হামিমের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ডিজিটাল প্রভাবের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর ইলেকট্রনিক ডিভাইস, অনলাইন যোগাযোগ এবং বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। কারা তাঁর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং যোগাযোগের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
এসটিএফের এক আধিকারিক গৌরব শর্মার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় হামিমের একাধিক অনলাইন যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ‘রানা’ ও ‘উজায়ের’-সহ কয়েকটি হ্যান্ডেলের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং এনক্রিপটেড কোডে বার্তা আদান-প্রদান করা হত। এই সমস্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তও চলছে।
তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। হামিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে এখনও প্রমাণিত হয়নি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ডিজিটাল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের উৎস খতিয়ে দেখে পুরো ষড়যন্ত্রের চিত্র সামনে আনার চেষ্টা চলছে।
Leave a Comment