দীর্ঘ ১৮ বছরেরও বেশি সময় পর ফের কলকাতায় ফিরছেন বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ-বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। বহু বছর পর শহরে ফেরার সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত লেখিকা জানিয়েছেন, কলকাতা তাঁর কাছে শুধুই একটি শহর নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া নিজের ঘর।
কলকাতায় ফেরার আগে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তসলিমা বলেন, “১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর কলকাতায় ফিরছি। অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কলকাতা আমার কাছে শহর নয়, আমার হারিয়ে যাওয়া ঘর। মনে হচ্ছে, দীর্ঘ নির্বাসনের পর আবার নিজের ঘরে ফিরছি।”
তিনি আরও জানান, তাঁর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করায় রাজ্য সরকারের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের আয়োজকদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই সাহিত্যিক।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের নভেম্বরে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। তাঁর বই ‘দ্বিখণ্ডিত’-কে কেন্দ্র করে তৎকালীন সময়ে শহরের একাধিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছিল। সেই সময় রাজ্যের প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর বইয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং পরে তাঁকে কলকাতা ছেড়ে যেতে হয়।
তারপর দীর্ঘ সময় আর এই শহরে ফেরা হয়নি তাঁর। তবে লেখিকার দাবি, শহর থেকে দূরে থাকলেও কলকাতা কখনও তাঁর মন থেকে দূরে সরে যায়নি।
আগামী ১ আগস্টের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সেক্যুলার মিশন এবং এইচআরবিএফএফ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৌলবাদ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা এবং সাহিত্যিকদের সম্মাননা পর্ব থাকবে অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
কলকাতায় ফেরার অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তসলিমা বলেন, “কলকাতা সবসময়ই আমার ভেতরে ছিল। এত বছর পর আবার সেই শহরের মাটিতে পা রাখব— আনন্দ, আবেগ আর বেদনা একসঙ্গেই কাজ করছে।”
প্রায় দুই দশক পর এই প্রত্যাবর্তন শুধু তসলিমা নাসরিনের ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নয়, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরিসরেও তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তাঁর এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
Leave a Comment