সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি নিজে না শুনে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কলকাতা হাই কোর্টকে নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি সংক্রান্ত মামলার শুনানি।
নজরবন্দি ব্যুরো: চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) মামলাটি নিজে না শুনে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কলকাতা হাই কোর্টকে (Calcutta High Court) নির্দেশ দেওয়ার পর বুধবারই এই মামলার শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি মিলবে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও আইনি মহলের।
মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের (Justice Sougata Bhattacharya) এজলাসে অভিষেকের আইনজীবী জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানির আবেদন জানান। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলে আদালত বুধবার মামলাটি তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে দুই পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
চোখের বিশেষ চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অনুযায়ী গত ২৯ জুলাই তাঁর বিদেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়ার সুযোগ নেই। সেই কারণেই বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
এর আগে ২০ জুলাই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কলকাতাতেই উন্নত মানের চক্ষু চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে এসএসকেএম হাসপাতাল (SSKM Hospital)-এ বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশও দেওয়া যেতে পারে। এই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করেই অভিষেক সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
সোমবার দেশের শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Chief Justice Surya Kant), বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Justice Joymalya Bagchi) এবং বিচারপতি ভি. মোহননের (Justice V. Mohanan) বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। অভিষেকের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শংকরনারায়ণ (Gopal Sankaranarayanan)। তবে সুপ্রিম কোর্ট মামলার মূল বিষয়বস্তুতে প্রবেশ না করে হাই কোর্টকে এক সপ্তাহের মধ্যে শুনানি শেষ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানায়।
শীর্ষ আদালতের ওই নির্দেশের পরই নতুন করে কলকাতা হাই কোর্টে দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়। সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় বুধবারের শুনানি এখন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালত অভিষেকের বিদেশে চিকিৎসার আবেদন মঞ্জুর করবে, নাকি রাজ্যের মধ্যেই চিকিৎসার বিকল্প ব্যবস্থা বজায় রাখবে— সেই সিদ্ধান্তের দিকেই এখন সকলের নজর।
Leave a Comment