Abhishek Banerjee Signature Forgery Case-এ আপাতত স্বস্তি পেলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও এক মাস বৃদ্ধি করেছে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে তাঁকে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি-র তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি চিঠিতে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে এই মামলা শুরু হয়। ওই চিঠিতে তৎকালীন দলীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল। পরে সেই স্বাক্ষর ও বিধায়কদের সই নিয়ে কারচুপির অভিযোগ ওঠে। এর জেরে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয় এবং পরবর্তীতে তদন্তভার সিআইডির হাতে যায়।
কী নির্দেশ দিল আদালত?
শুক্রবার মামলাটি বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে ওঠে। আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্তর্বর্তী সুরক্ষার মেয়াদ এক মাস বাড়িয়ে দেয়। তবে আগের মতোই শর্ত বহাল রাখা হয়েছে যে, তদন্তের প্রয়োজন হলে তাঁকে সিআইডির সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে।
এর আগে এই মামলায় সিআইডি ভবানীভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
এফআইআর খারিজের আবেদনও বিচারাধীন
সই জাল মামলায় সিআইডির নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি এফআইআর বাতিলের আবেদন জানিয়েও পৃথক মামলা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলায় সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে নোটিস জারি করে তাদের বক্তব্য জানতে চেয়েছে। আগামী সপ্তাহে সেই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
মামলার সূত্রপাত কীভাবে?
বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া একটি চিঠিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূলের জয়ী দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। পরে বিধানসভার তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধায়কদের একটি অংশ পৃথক চিঠি জমা দিলে স্পিকার তাঁকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় হাই কোর্টে পৃথক মামলা করেছেন। সেই মামলাটিও বর্তমানে বিচারাধীন।
আদালতে একাধিক মামলা
এই রাজনৈতিক ও আইনি বিরোধের জেরে বর্তমানে একাধিক মামলা কলকাতা হাই কোর্টে বিচারাধীন। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন, সই জালিয়াতির অভিযোগ এবং দলীয় সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ—সব বিষয় নিয়েই আদালতে শুনানি চলছে।
উল্লেখ্য, সই জালিয়াতির অভিযোগ সংক্রান্ত মামলাটি এখনও বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে প্রমাণিত হিসেবে ধরা যায় না।
Leave a Comment