---Advertisement---

‘শরীরটা ওদিকে গেলেও মনটা এদিকেই’

By Suman Debnath

July 17, 2026 3:05 PM

‘শরীরটা ওদিকে গেলেও মনটা এদিকেই’

---Advertisement---


এই মুহূর্তে দিল্লিতে অনশনে বসে আছেন সোনম ওয়াংচুক, আর কলকাতার বিধানসভা চত্বরে তাঁকে সমর্থন জানাতে ধর্নায় যোগ দিয়েছেন কালীঘাটপন্থী কিছু তৃণমূল নেতা। কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো পরিচিত মুখরা ছিলেন সেখানে। হঠাৎই সেখানে হাজির হলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। আগের দিন তিনি দলের বিরোধী গোষ্ঠী সন্দীপন সাহার বাড়িতে যান, সেটা নিয়ে বিভিন্ন মহলে কানাঘুষো হয়। আর পরদিনই তিনি বিধানসভা এসে দলীয় সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন, সেটা আবার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে তাঁর পাশে বসে।

মন ভালো নেই, সিনে নাটক চলছে, ঠিক এই মুহূর্তে ধর্না মঞ্চে মদন মিত্রকে দেখেই কুণাল ঘোষ একটু খুনসুটির ছলেই তীব্র রাজনৈতিক খোঁচা মেরে বসলেন। মদনও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন, তিনিও পালটা মজার ছলে জবাব দিলেন। এঁদের এই কথাবার্তা আর পরস্পরের সঙ্গে ঠাট্টা আলাপ মুহূর্তে বিধানসভা-রাজনীতির প্রাণ হয়ে উঠল।

আরও পড়ুন:  বৃদ্ধার জমি দখল করে পার্টি অফিস তৃণমূলের, ফেরতের ব্যবস্থা করলেন বিজেপি বিধায়ক

মদনকে দেখে কুণালের খোঁচা ছিল, ‘মদনদা হয়তো শারীরিকভাবে ওদিকে চলে গিয়েছেন, কিন্তু ওঁর মন আমাদের এখানেই পড়ে আছে। আসলে ওঁর পরিবারের দিকে ইডি নজর দিয়েছে, বউদি ছেলেদের নোটিশ পাঠিয়েছে। আমরা চাই উনি ভালো থাকুন। ওনার যা মন চায় বলুন , আমরা জানি, আমাদের ভেতরের লোক বিরোধী শিবিরে থাকলেও আদতে তিনি আমাদেরই।’

আসলে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি মদনের স্ত্রী আর দুই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে, বেশ চাপেই রয়েছে পুরো পরিবার। কুণাল সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

এত কথা কাটাকাটির পর মদন মিত্র চিরচেনা ভঙিতেই পালটা ঠাট্টা করেন  তিনি মজার ছলেই বলেন, ‘আমি চাই শোভনদা আগামী ১০ বছর বিরোধী আসনে বসুক, হা হা, সারাজীবন ওদিকে থাকুক। দেখাই যাক কাকে মানুষ সরকারে বসায়!’ মদনের এই কথার উত্তরে শোভনদেববাবু হেসে ফেলে বললেন, ‘কি বললি রে?’ মুহূর্তেই চাপে থাকা পরিবেশটা হালকা হয়ে গেল।

আরও পড়ুন:  স্কুলে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মুর্শিদাবাদে ট্রেনের ধাক্কায় দুই পড়ুয়া-সহ ৩ জনের মৃত্যু, তদন্তে রেল

ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে, হাসি ঠাট্টার আগে কুণাল বেশ সিরিয়াসভাবে বলেন, “ওয়াংচুক দিনের পর দিন অনশনে আছেন, তাঁর শরীরও খারাপ হচ্ছে। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওনাকে পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েছেন, ওঁর সুস্থতা চেয়েছেন। ওনার নির্দেশে আমাদের এক প্রতিনিধি দল গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেছে।”

এইভাবেই দুই ঘরানার ঠাট্টা–বিনোদনের মাঝে রাজনৈতিক বার্তাও উঠে আসে বিধানসভা চত্বরে।

The post ‘শরীরটা ওদিকে গেলেও মনটা এদিকেই’ appeared first on Dainik Statesman.

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment