দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন এখন ছড়িয়েছে মুম্বই, কর্নাটক, কেরল-সহ একাধিক রাজ্যে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর সব রাজ্যকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
দিল্লির যন্তর মন্তর (Jantar Mantar) থেকে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন এখন আর রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নেই। মুম্বই, পুণে, নাগপুর-সহ একাধিক রাজ্যে প্রতিবাদের বিস্তার ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে কেন্দ্রের। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রাজ্যগুলিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ চলছিল। সেই আন্দোলনে যোগ দেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। পরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু হয় এবং ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে লক্ষাধিক পড়ুয়া সংসদ ভবন অভিযানের কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সোমবারের ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে উত্তেজনা চরমে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মিছিল আটকাতে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং বলপ্রয়োগ করেছে। মহিলা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও সামনে এসেছে। সোমবারের ঘটনার পর টানা দু’দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।
অন্যদিকে আন্দোলনের প্রভাব রাজধানীর বাইরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। মুম্বই (Mumbai)-এর শিবাজী পার্কে (Shivaji Park) ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অনুমতি ছাড়া জমায়েতের অভিযোগে তাঁদের মধ্যে অন্তত ২০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুধু মুম্বই নয়, মহারাষ্ট্রজুড়ে মুম্বই, পুণে (Pune) ও নাগপুর (Nagpur)-সহ বিভিন্ন শহরে শতাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর মিলেছে।
একইসঙ্গে কর্নাটক (Karnataka), তামিলনাড়ু (Tamil Nadu), কেরল (Kerala), অসম (Assam) এবং হরিয়ানা (Haryana)-তেও একই ইস্যুতে আন্দোলনের বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও প্রতিবাদী গোষ্ঠী রাস্তায় নেমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার কেন্দ্রীয় স্তরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। কোথাও আন্দোলন আরও তীব্র হলে তা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্য সরকারকে সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (Rapid Action Force)-এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থেকে অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানকে জরুরি ভিত্তিতে বিমানযোগে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর। আন্দোলনের বিস্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এখন কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
Leave a Comment