রাজনৈতিক দলবদল নিয়ে জল্পনার মাঝেই প্রথমবার প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতিতে যে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন, তা পূরণ না হওয়াতেই দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যে স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলাম, সেই পথে বাধা এসেছে। তাই দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বের পাশে রয়েছি।”
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, তিনি পেশাদার রাজনীতির মানুষ নন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মীদের মতো সংগঠনের অভিজ্ঞতা তাঁর নেই বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, ব্যক্তিগত উপলব্ধি থেকেই তিনি দলবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এই বিষয়ে অন্যদের মতামতকে তিনি সম্মান করেন।
দল পরিবর্তনের পর নিজের অগ্রাধিকারের কথাও স্পষ্ট করেন হুগলির সাংসদ। রচনার দাবি, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হুগলি জেলার উন্নয়ন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নয়, মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই রাজনীতিতে এসেছেন। সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের সহযোগিতা পেলে জেলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে কী হয়েছে বা হয়নি, তা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কে না গিয়ে ভবিষ্যতের উন্নয়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই বর্তমান সময়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
২১ জুলাই শহিদ দিবস নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ২১ জুলাই শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বহু মানুষের কাছে এটি আবেগের দিন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণ করাই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।
পশ্চিমবঙ্গে দলবদল এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দল পরিবর্তনের পর তিনি যে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী দিনে তা কতটা বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
Leave a Comment