কলকাতা ফুটবল লিগে টানা দ্বিতীয় জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করল মোহনবাগান। প্রথম ম্যাচে বড় জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও এগিয়ে গিয়েছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। কিন্তু খিদিরপুর স্পোর্টিংয়ের লড়াকু ফুটবলের সামনে শেষ পর্যন্ত ১-১ ফলেই সন্তুষ্ট থাকতে হল। ফলে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্টের বদলে এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হল মোহনবাগানকে।
পাঠচক্রের বিরুদ্ধে ৪-০ ব্যবধানে জয় দিয়ে লিগ অভিযান শুরু করেছিল মোহনবাগান। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিল বাস্তব রায়ের দল। তবে শুরু থেকেই খিদিরপুর আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটেই একাধিক আক্রমণে মোহনবাগানের রক্ষণকে চাপে ফেলে দেয় মেহতাব হোসেনের দল।
১৮ মিনিটে কিয়ান নাসিরির নেওয়া দুরন্ত ফ্রিকিক দক্ষতার সঙ্গে বাঁচিয়ে দেন খিদিরপুরের গোলরক্ষক অর্ধেন্দু দত্ত। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় মোহনবাগান। ২৭ মিনিটে বাঁদিক দিয়ে দুরন্ত দৌড়ে বক্সে ঢুকে কিয়ান নিখুঁত পাস বাড়ান সন্দীপ মালিকের উদ্দেশে। সুযোগ নষ্ট না করে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সন্দীপ।
প্রথমার্ধে সেই ব্যবধান ধরে রাখলেও বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মোহনবাগানের একটি সহজ সুযোগ নষ্ট হয়। তার ঠিক পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে সমতা ফেরায় খিদিরপুর। তুহিন শিকদারের গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।
গোল হজম করার পর আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় মোহনবাগান। কিয়ান নাসিরি, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুহেল ভাট এবং রবিলাল মাণ্ডিরা একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত জয়ের গোল আর পাওয়া যায়নি। সায়নের বাইসাইকেল কিক থেকে শুরু করে কিয়ানের ক্রস—সবই আটকে যায় খিদিরপুরের সংগঠিত রক্ষণে।
অন্যদিকে, খিদিরপুরও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার মোহনবাগানের রক্ষণকে পরীক্ষায় ফেলে। শেষ দিকে একটি বিপজ্জনক ফ্রিকিক পেলেও সেটিকে কাজে লাগাতে পারেনি তারা। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও দুই দলের কেউই জয়সূচক গোল করতে না পারায় ম্যাচ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট হারানো নিঃসন্দেহে মোহনবাগানের জন্য ধাক্কা। তবে খিদিরপুরের সংগঠিত ফুটবল এবং রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখন লিগে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফের জয়ের ছন্দে ফিরতে চাইবে সবুজ-মেরুন শিবির।
Leave a Comment