বাড়ি তৈরির জন্য রাস্তার উপর ইট, বালি, পাথর বা অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার দিন শেষ। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এমন কাজ করলে জরিমানা করা হবে বলে ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। শুধু নির্মাণসামগ্রী নয়, ফাঁকা জমি অপরিষ্কার রাখা, বেআইনি পার্কিং এবং ফুটপাথ দখল নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। রবিবার শিলিগুড়িতে একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এই বার্তা দেন মন্ত্রী।
অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, বহু ক্ষেত্রেই বাড়ি নির্মাণের সময় দিনের পর দিন রাস্তার উপর ইট, বালি ও পাথর ফেলে রাখা হয়। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে অসুবিধা হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই এবার থেকে এমন অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
মন্ত্রী বলেন, “বাড়ি বানাচ্ছেন বলে রাস্তার উপর ইট, বালি বা পাথর ফেলে রাখবেন, এটা আর চলবে না। যাঁরা বাড়ি করছেন, তাঁরা নিজেদের জমির ভিতরেই নির্মাণসামগ্রী রাখুন। রাস্তা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।” তাঁর কথায়, ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে এবং নিয়ম ভাঙলে জরিমানা আদায় করা হবে।
শুধু রাস্তা নয়, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ফাঁকা জমি পরিষ্কার রাখাও বাধ্যতামূলক করার বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অনেকেই জমি কিনে বছরের পর বছর ফেলে রাখেন। সেখানে ঝোপঝাড়, নর্দমা বা জল জমে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়, যা ডেঙ্গির মতো রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ায়।
অগ্নিমিত্রা বলেন, “যেমন নিজের বাড়ি বা বাগান পরিষ্কার রাখা দায়িত্ব, তেমনই ফাঁকা জমিও পরিষ্কার রাখতে হবে। আপনার জমির কারণে আশপাশের মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হবেন, তা মেনে নেওয়া হবে না।”
এদিন বেআইনি পার্কিং নিয়েও ফের সতর্কবার্তা দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নির্দিষ্ট পার্কিং জোন ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি রাখা যাবে না। পার্কিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে রাজ্য সরকার একটি নতুন পার্কিং অ্যাপ চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।
ফুটপাথ দখল নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, ফুটপাথে গাড়ি বা মোটরবাইক পার্ক করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হবে। একই সঙ্গে যাঁরা ফুটপাথের সম্পূর্ণ অংশ দখল করে ব্যবসা করছেন, তাঁদেরও জায়গা ছেড়ে পথচারীদের চলাচলের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে হকারদের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র ঘোষণার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, দুর্গাপুজো পর্যন্ত কোনও হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে না। এই সময়ের মধ্যে ফুটপাথ ব্যবহারের বিষয়ে সমন্বয়ের চেষ্টা করবে প্রশাসন।
নতুন নিয়মের লক্ষ্য, শহর ও শহরতলির রাস্তা এবং ফুটপাথকে আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও দখলমুক্ত করা। তবে জরিমানার নির্দিষ্ট অঙ্ক, কোন সংস্থা তা আদায় করবে এবং প্রয়োগের বিস্তারিত বিধি সম্পর্কে এখনও সরকার আলাদা নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি। সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নিয়মের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো স্পষ্ট হবে।
Leave a Comment