---Advertisement---

গ্রান্ট-ইন-এড কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপর রাজ্য, শুরু প্রশাসনিক প্রস্তুতি

By Suman Debnath

August 5, 2026 3:20 PM

গ্রান্ট-ইন-এড কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপর রাজ্য, শুরু প্রশাসনিক প্রস্তুতি

---Advertisement---


বিভিন্ন ক্ষেত্রের রাজ্য সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত (গ্রান্ট-ইন-এড) কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে উদ্যোগী হল অর্থ দপ্তর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই বকেয়া (এরিয়ার) টাকা দেওয়ার নির্দেশিকা কার্যকর করতেই মূলত প্রশাসনিক পর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। অর্থ দফতর সূত্রে খবর, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অধীনস্থ আইটি কর্মীদের (যাঁরা বেতন ও অন্যান্য প্রশাসনিক পোর্টালে বিল জমা করার দায়িত্বে থাকেন) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট পোর্টালে এই মুহূর্তে অন্য কোনও আর্থিক বকেয়ার বিল জমা না দেওয়া হয়।

সরকারি কোষাগার থেকে যারা সরাসরি স্থায়ী বেতন পান না, এমন অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মী— যেমন সরকার পোষিত বা অনুমোদিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধিবদ্ধ বোর্ড, কর্পোরেশন ইত্যাদির কর্মীদের ‘রোপা ২০০৯’ অনুযায়ী দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ-র অর্থ মিটিয়ে দেওয়াই এখন প্রাধান্য পাচ্ছে। সম্প্রতি অর্থ দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে অন্যান্য বিভাগের ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত দফতরকে তাদের নিজস্ব বেতন পোর্টালে (যেমন শিক্ষকদের ক্ষেত্রে আইওএসএমএস) বকেয়ার বিল জমা দেওয়ার জন্য আলাদা শাখা (অপশন) প্রস্তুত রাখতে হবে। এই প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরই বকেয়া বিল সাবমিট করার পরবর্তী নির্দেশ পাঠাবে অর্থ দপ্তর।

আরও পড়ুন:  সবজির দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী, বেগুন সেঞ্চুরি পার করেছে, নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে সুপ্রিম কোর্টে চলা আইনি লড়াইয়ের পর এই বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়েছে। তবে এই বকেয়া দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সাম্প্রতিক রোপা ২০১৯ অনুযায়ী ঘোষিত ২০ শতাংশ ডিএ মিটানোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উপর ভিত্তি করে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া মেটানোর কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই অর্থ দপ্তর থেকে প্রতিটি বিভাগের নোডাল অফিসার এবং আইটি পার্সোনালদের সতর্ক থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে থেকেই দাবি করছিলাম যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো আমাদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কর্ণপাত করেনি। লোকদেখানো কিছু সরকারি কর্মচারীকে ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সামান্য টাকা দিয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও গ্র্যান্ট-ইন-এড কর্মীদের চাপ আরও বাড়ে। অবশেষে সরকার নড়েচড়ে বসল। আমরা আশা করব পুজোর আগেই একটা কিস্তি আমাদের দেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন:  টুলুর ভাগ্নে ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ, নেপালে চম্পট দেওয়ার ছক বানচাল

এ বছর পুজোর আগেই সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে দিয়েছে নবান্ন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য নেওয়া এই সিদ্ধান্তের কথা। নবান্ন থেকে অর্থ দপ্তরের (অডিট ব্রাঞ্চ) অতিরিক্ত প্রধানসচিব প্রভাতকুমার মিশ্রের সই করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের পূর্ণ সময়ের কর্মচারীরা আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে সংশোধিত মূল বেতনের ৩৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের প্রথম বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, আগামী নভেম্বর মাস থেকে বর্ধিত ডিএ পাওয়া শুরু করবেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন নভেম্বর মাস নয়, পুজোর আগেই সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য দিয়ে টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। এ বার সরকারি অনুমোদিত এবং পোষিত সংস্থার কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment