হাতে আর বাকি ৯ দিন। তারপরই গোটা দেশ উদযাপন করবে স্বাধীনতা দিবস। ইতিমধ্যেই গোটা দেশে সাজ সাজ রব। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গড়ে উঠেছে। তাই প্রথম সুযোগ আসছে বিজেপি কাছে। এই দিনে রেড রোডে কুচকাওয়াজ হয়। নানা ধরণের ট্যাবলো দেখা যায়। উপস্থিত থাকেন রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকরা। এই কুচকাওয়াজ দেখতে শহরের নানা প্রান্তের মানুষজন ভিড় করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, স্বাধীনতা দিবসের দিন কি মুখ্যমন্ত্রী ভাষণ দেবেন? এই নিয়ে রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বলে সূত্রের খবর।
কেমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে? আগামী ১৫ আগস্ট রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে রাজ্য বিজেপি। সেখানে বলা হয়েছে, নতুন সরকার গঠনের পর এটাই মুখ্যমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। জনগণের উদ্দেশে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ যখন মিলছে তখন তা কাজে লাগানো উচিত। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ চান, মুখ্যমন্ত্রী সকলের জন্য কিছু বলুন। সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তাঁর বার্তা বিশেষ মাত্রা যোগ করবে। রোজকার রাজনৈতিক ভাষণের বাইরে গিয়ে একেবারে অন্য মাত্রায় ভাষণ দিন মুখ্যমন্ত্রী। তাতে শাসনের অভিমুখ যেমন তুলে ধরা যাবে তেমন মানুষের জন্য আর কী কী কাজ করতে চান সেটাও তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে সূত্রের খবর।
বিজেপি সূত্রে খবর, দু’দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার গঠনের পর রাজ্যবাসীর প্রত্যাশা বেড়েছে। কর্মসংস্থান, শিল্প, পরিকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা থেকে প্রশাসনিক সংস্কার সব ক্ষেত্রেই সরকারের অভিমুখ কী হবে, আগামী পাঁচ বছরে কোন পথে এগোতে চায় নতুন রাজ্য সরকার সেটা মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। স্বাধীনতা দিবসের বার্তা সেই সুযোগ করে দিতে পারে। এটি একদিকে যেমন শুভেচ্ছাবার্তা দেওয়া হবে তেমন নতুন সরকারের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক দর্শন তুলে ধরাও সম্ভব হবে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও সবুজ সংকেত মুখ্যমন্ত্রী দেননি বলেই সূত্রের খবর। তবে আগামী ৯ আগস্ট নবান্ন সভাঘরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ লোকতন্ত্র সেনানি সম্মান’ প্রদান অনুষ্ঠান। সেখানে তিনি এই বিষয়ে বার্তা দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তাছাড়া সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাই স্বাধীনতা দিবসে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়ে থাকেন। তবে গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কোনও নির্দিষ্ট বার্তা রাজ্যবাসীর উদ্দেশে দেননি। নতুন বিজেপি সরকার সেই প্রথা চালু করুক বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। তাই বোঝা যাচ্ছে না স্বাধীনতা দিবসের দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভাষণ দেবেন কিনা। বিষয়টি নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী কী সিদ্ধান্ত নেন সেটাই এখন দেখার।
Leave a Comment