বিধানসভার ভিতরে বুধবার রাজনীতির পারদ চরমে উঠল। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে চরম তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কড়া ভাষায় নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার নারী নিরাপত্তা থেকে শুরু করে অতীত দুর্নীতি সব বিষয় নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক বক্তব্যে বিধানসভার ফ্লোরে বোমা ফাটালেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘প্রতিষ্ঠিত চোর’ বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ‘ভাইপো’র অবস্থা শওকত মোল্লা এবং জাহাঙ্গির খানের থেকেও খারাপ হবে। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যত চুপ করে থাকেন ততই তাঁর জন্য মঙ্গল বলেও হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে অভিষেকের পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো নানা মন্তব্যের স্মৃতি উসকে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এদিন নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রশ্ন তোলেন। মুখ্যমন্ত্রী সুর চড়িয়ে বলেন, ‘ওই ছোঁড়া কে, প্রতিষ্ঠিত চোরকে, ওকে আমি বলে গেলাম ভিতরে থাকবেন কি বাইরে থাকবেন ভবিষ্যৎ বলবে। ডায়মন্ডহারবারে লড়ুন, ৪০ শতাংশের বেশি মুসলিম ভোট রয়েছে। আপনাকে বলছি যত ভোটে জিতেছেন তার থেকে বেশি ভোটে হারাবো। আর কামদুনিকে আপনারা ‘ছোট্ট ঘটনা’ বলেছিলেন। বারাসত প্রসঙ্গে মন্তব্য ছিল, ‘শরীর থাকলে যেমন শরীর খারাপ হয়, তেমনই একটু-আধটু রেপ-টেপ হয়’! ময়নাগুড়ির ঘটনাকে ‘লাভ অ্যাফেয়ার’ আখ্যা দিয়েছিলেন। আর আরজি করের ক্ষেত্রে বলেছিলেন, ‘ওর বাবা-মা চাইলে ১০ লাখ দিতে পারি’। আগের সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর মুখে নারী নিরাপত্তা নিয়ে এসব কথা তো আমরা শুনেছি।’
অন্যদিকে এখানেই থামেননি শুভেন্দু অধিকারী। চোখা চোখা বাক্যবাণে বিদ্ধ করেছেন মমতা-অভিষেককে। মুখ্যমন্ত্রীর তোপ, ‘যে সব আদর্শ এবং প্রতিশ্রুতি সামনে রেখে আপনারা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তার একটারও বাস্তবায়ন হয়নি। সিপিএম ৩৪ বছর ধরে রাজনৈতিক দুর্নীতি করেছে। আর তৃণমূল চালু করেছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি। শুধু চোর তৃণমূলই নয়, দুর্নীতিগ্রস্ত সিপিএম-কেও আমরা ছাড়ব না। অবশ্য সমর মুখোপাধ্যায় বা সমীর জানাদের মতো সৎ নেতাদের কোনও চিন্তা নেই। কিন্তু বাকিদের জেলে পাঠাব। সম্পত্তি ক্রোক করব। অনেকে একবার ঢুকে বেরিয়ে এসেছেন, তাঁরা আবার ঢুকবেন। আমার কাছে স্পষ্ট প্রমাণ আছে, আগের মুখ্যমন্ত্রী এক বছর ধরে আরজি করের ফাইল চেপে রেখেছিলেন। আর আমি ক্ষমতায় আসার পর একসপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়েছি। সন্দীপ ঘোষ বা বিরূপাক্ষদের বিরুদ্ধে আমরাই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। এই ভাইপো-পন্থী তৃণমূলের নাম-নিশানা পশ্চিমবঙ্গ থেকে আমরা তুলে দেব।’
তাছাড়া কালীঘাট তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে তুলোধনা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিষেককে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, ‘উনি প্রতিষ্ঠিত চোর। একটি আঞ্চলিক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, গরুর গাড়ির হেডলাইট। আর মিত্র ইনস্টিটিউশনের চারটে বুথেই তো হেরেছেন। নিজের বাড়ির কাজের লোক চোখ মেরে আমাকেই ভোট দিয়েছেন বলে গিয়েছেন। অথচ এখানে দাঁড়িয়ে আপনি আমাকে বলতেন, আমি নাকি নিজের ওয়ার্ডে জিততে পারি না। ভগবানের এমন মার যে, নিজের ওয়ার্ডেই চার হাজার ভোটে হেরে বসে আছেন। যত মুখ বন্ধ রাখবেন, ততই আপনার মঙ্গল। যত দাঙ্গা বাঁধিয়েছেন, তার জন্য কোনও সনাতনী আপনাকে কোনওদিন ক্ষমা করবে না। রাজনৈতিকভাবে আপনি আর কোনওদিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না। আপনি যা খুশি বলতে পারেন, করতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন, আইন ভাঙলে আইনের ঊর্ধ্বে আপনিও নন। আর উনি বলছেন হিসেব হবে? আগে উনি বাইরে থাকুন, তবে তো হিসেব করবেন।’
Leave a Comment