তৎকালীন সরকারের আমলে শিক্ষকদের একাংশ স্কুল এড়িয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগদান করতেন বলে প্রায়শই অভিযোগ উঠত। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরে এই ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। এরকম ঘটনা ঘটলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন দীপক বর্মন।
শুক্রবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গের কয়েকজন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের সঙ্গে দেখা করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকরা বিভিন্ন স্কুলের বদলি, পরিকাঠামো ও জেলা শিক্ষা দপ্তররে কার্যালয়ের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের কাছ থেকে সমস্ত অভিযোগ শোনেন। এরপরে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল আমলে কী হয়েছে, তা জেনে আমার কোনও লাভ নেই। শিক্ষকরা স্কুলে যাচ্ছেন এবং যাবেন। বিশেষ কোনও সমস্যা থাকলে সেটা অন্য ব্যাপার।’
এরপরেই দীপক বর্মন বলেন, ‘কোনও শিক্ষক যদি স্কুলে না এসে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগদান করেন। আর সেই খবর যদি পাওয়া যায়, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শিক্ষক মহলের একাংশের দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে শিক্ষকদের একাংশের বিরুদ্ধে স্কুলে না গিয়ে রাজনৈতিক মিছিলে যাওয়া ও নেতাদের সঙ্গে ঘোরার অভিযোগ উঠত। এবার তা বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে তুলে আনাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতি শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে ৩০ মিনিট পর্যন্ত তিনি উত্তরকন্যাতে বসবেন। তাঁর অধীনে যে তিনটি দপ্তর রয়েছে, তার কাজকর্ম নিয়ে যাদের যা অভিযোগ রয়েছে, সেইসব তিনি শুনবেন। এ বিষয়ে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির দার্জিলিং জেলা সম্পাদক বিদ্যুৎ রাজগুরু বলেন, ‘পঠনপাঠনের ক্ষতি করে কেউ যেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ না দেয়, এ বিষয়ে আমরা বারবার বলেছি। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। তৃণমূল জমানায় অনেক শিক্ষক নেতা স্কুলে গিয়ে উপস্থিতির খাতায় সই করে চলে যেতেন। তবে সরকারকে দেখতে হবে, বিজেপিপন্থী শিক্ষকরা কয়েকদিন পর থেকে স্কুলে গিয়ে যাতে ছড়ি না ঘোরান।’
Leave a Comment