ভারতের ভারোত্তোলন (Weightlifting) দলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ডোপিং বিতর্কের আবহেই গ্লাসগো (Glasgow) কমনওয়েলথ গেমসে দুর্দান্ত জবাব দিলেন মীরাবাঈ চানু (Mirabai Chanu)। ৪৮ কেজি বিভাগে স্বর্ণপদক জিতে শুধু ভারতকেই গর্বিত করলেন না, টানা তিনটি কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতে গড়ে ফেললেন অনন্য নজির। রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে অলিম্পিক রুপোজয়ী এই তারকা আবারও প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চে তিনিই ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভারোত্তোলক।
ভারতের ভারোত্তোলন অভিযান শুরু হয়েছিল রুপোর পদক দিয়ে। ঋষিকান্ত সিংয়ের সাফল্যের পর নজর ঘুরে যায় মীরাবাঈ চানুর দিকে। প্রত্যাশার চাপকে সঙ্গী করেই মঞ্চে নামেন তিনি। শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন মণিপুরের এই তারকা। যদিও স্ন্যাচে প্রথম প্রচেষ্টায় ৮২ কেজি তুলতে ব্যর্থ হন, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় সেই ভুল শুধরে সফল হন। এরপর তৃতীয় প্রচেষ্টায় ৮৫ কেজি তুলে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়ে কার্যত স্বর্ণপদকের ভিত শক্ত করে ফেলেন।
ক্লিন অ্যান্ড জার্কেও প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থতার মুখ দেখতে হয় তাঁকে। কিন্তু দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ১০৫ কেজি ওজন তুলতে সক্ষম হন। স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে মোট ১৯০ কেজি ওজন তুলে তিনি প্রতিযোগিতায় সবার থেকে অনেকটা এগিয়ে থাকেন। এই পারফরম্যান্সই তাঁকে এনে দেয় গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের স্বর্ণপদক।
এর মাধ্যমে মীরাবাঈ চানু টানা তৃতীয় কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করলেন। ২০১৮ সালে গোল্ড কোস্ট (Gold Coast), ২০২২ সালে বার্মিংহাম (Birmingham)-এর পর এবার গ্লাসগোতেও সোনার পদক জিতে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করলেন। এর আগে ২০১৪ সালে প্রথম কমনওয়েলথ গেমসে রুপোর পদকও জিতেছিলেন তিনি। ফলে টানা চারটি কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে পদক জয়ের বিরল নজিরও গড়লেন এই ভারতীয় তারকা।
৩১ বছর বয়সী মীরাবাঈর এই সাফল্য শুধু স্বর্ণপদকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিযোগিতায় তিনি একসঙ্গে চারটি নতুন কমনওয়েলথ রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়ে নেন। প্রথমে ৮২ কেজি তুলে স্ন্যাচে নতুন রেকর্ড গড়েন, পরে ৮৫ কেজি তুলে নিজেই সেই রেকর্ড ভাঙেন। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০৫ কেজি তুলেও নতুন রেকর্ড গড়েন। সবশেষে মোট ১৯০ কেজি ওজন তুলে সামগ্রিক বিভাগেও নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড স্থাপন করেন।
এই ইভেন্টে নাইজেরিয়ার রুথ আসুকো নিয়ং (Ruth Asuko Niong) মোট ১৬৮ কেজি তুলে রুপোর পদক জেতেন। মালয়েশিয়ার আইরিন জেন হেনরি (Irene Jane Henry) ১৬৭ কেজি ওজন তুলে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন। তবে গোটা প্রতিযোগিতাজুড়েই মীরাবাঈ ছিলেন অন্য উচ্চতায়। তাঁর পারফরম্যান্সের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেননি প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
স্বর্ণপদক গ্রহণের পর যখন ভারতের জাতীয় সঙ্গীত বাজতে শুরু করে, আবেগ সামলাতে পারেননি মীরাবাঈ চানু। চোখের কোণে জমে ওঠা জলই যেন বলে দিল, এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম, প্রত্যাবর্তনের লড়াই এবং দেশের জন্য আরও একবার সেরা হওয়ার গর্ব।
Leave a Comment