পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ, কাটমানি খাওয়া বন্ধ করা হবে। এই কথাগুলি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে দাবি করেছিলেন বিজেপি নেতারা। রাজ্যে উন্নয়নের কাজ হবে এবং শিল্প নিয়ে এসে রাজ্যের বেকার যুবক- যুবতীদের হাতে কাজ দেওয়া হবে বলেও দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর দেখা গেল বহু কথাই রেখেছে বিজেপি। শিল্প আসতে শুরু করেছে। উন্নয়নের কাজও হচ্ছে। তবে এখনও পুরোপুরি তোলাবাজি আটকানো সম্ভব হয়নি! শনিবার এমনই আত্মসমীক্ষা করে বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি যে প্রকাশ্যে এভাবে বোমা ফাটাবেন তা কেউ ভাবতেও পারেননি। এটা আসলে আত্মসমীক্ষার পাশাপাশি কর্মীদের কড়া বার্তা দিলেন তিনি বলে মনে করা হচ্ছে। তাই তো ‘বিচ্যুতি’ আছে সে কথা মেনেও নিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ। দলের কর্মীদের এই বিষয়ে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। শনিবার কলকাতার রাজারহাটের আইআইটি খড়গপুর রিসার্চ পার্কের ‘উদ্যমী সমাগম’ বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের উন্নয়ন, শিক্ষা থেকে শিল্পক্ষেত্রে অগ্রগতি নিয়ে বার্তা দেন। আর তখনই তোলাবাজি নিয়েও সাবধানবাণী দিলেন শমীক ভট্টাচার্য। তাই তো আত্মসমীক্ষা করেই শমীকের বার্তা, ‘তোলাবাজি এখনও পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। পুরোপুরি তোলাবাজি আটকাতে পারিনি।’
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস জমানায় এই তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, কাটমানি চলত বলে অভিযোগ ছিল বিজেপির। এখন সেখান থেকে অনেকটা রাজ্যকে বের করে আনা হয়েছে বলে বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের দাবি। রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকার উন্নয়নে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প থেকে সব ক্ষেত্রেই ঢেলে সাজানো হচ্ছে। দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্সে’র বার্তা দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এই আবহে শমীক ভট্টাচার্যের হুঁশিয়ারি, ‘বিচ্যুতি আছে। আমাদের মধ্যে যাদের সুপ্ত বাসনা ছিল, তারা এখন সক্রিয়।’
তাছাড়া কদিন আগে খুঁটিপুজোয় গিয়ে উৎসবের মধ্যে যেন রাজনীতি প্রবেশ না করে সেই বার্তাও দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। এবার দলীয় কর্মীদের কাজ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। কারও নাম না করলেও এটা যে কার্যত সতর্কবার্তা সে কথা বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাই তো শমীক ভট্টাচার্য কড়া ভাষায় বলেন, ‘রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা রাজনৈতিক সমাজের বাসিন্দা হয়ে গিয়েছি। সেটার থেকে মুক্তি চাই। প্রত্যেকটা পদক্ষেপে রাজনীতির অনুপ্রবেশ। তার বাইরে যতক্ষণ না পশ্চিমবঙ্গ বেরোতে পারছে, কোনও সরকার পরিবর্তন আনতে পারবে না। বিনিয়োগ আনতে পারবে না।’
Leave a Comment