রবীন্দ্র আলেখ্যে নারী চরিত্রেরা, পর্ব ২: ‘সুভা’র চুপকথা

By Suman Debnath

September 26, 2026 2:55 PM

রবীন্দ্র আলেখ্যে নারী চরিত্রেরা, পর্ব ২: ‘সুভা’র চুপকথা


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সুভা’ গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্র সুভাষিনী কথা বলতে পারে না| সেটা বড় কথা নয়| সুভার না বলা কথা কথামুখ হয়ে তার জীবনগ্রন্থে গ্রন্থনা করে| গল্পটির গভীরতা অনেকটাই অধরা থেকে যায়। এই গল্প আসলে কথা বলতে না-পারা একটি কিশোরীর জীবনকে কেন্দ্র করে সমাজ, পরিবার, মাতৃত্ব, নারীত্ব এবং ‘স্বাভাবিক’ হয়ে ওঠার সামাজিক চাপের এক অসাধারণ দলিল। সুভা (Subha) কথা বলতে পারে না—কিন্তু রবীন্দ্রনাথ তাঁর নীরবতার মধ্যেই এমন এক ভাষা আবিষ্কার করেছেন, যা অনেক সময় কথার চেয়েও তীব্র। গল্পটির সূচনাতেই দেখা যায়, তার নাম রাখা হয়েছিল ‘সুভাষিণী’ (Tagore Short Stories)—যে সুন্দর করে কথা বলবে, এমন প্রত্যাশা থেকেই যেন নামটি। অথচ জন্মের পরই সেই নামের সঙ্গে তার বাস্তব জীবনের নির্মম ব্যবধান তৈরি হয়।

সুভার (Subha) চরিত্রটি নির্মাণের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে বড় সাফল্য সম্ভবত এই যে, তিনি তাঁকে ‘বোবা মেয়ে’ হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং সমাজ যাকে অসম্পূর্ণ বলে চিহ্নিত করছে, লেখক তাঁর অন্তর্জগতের অসীমতাকে সামনে এনেছেন। তাঁর দু’টি বড় কালো চোখ হয়ে ওঠে তাঁর ভাষা। রবীন্দ্রনাথের বর্ণনায় সেই চোখ কখনও উজ্জ্বল, কখনও ম্লান, কখনও স্থির, কখনও বিদ্যুতের মতো চঞ্চল। অর্থাৎ সুভার মুখে শব্দ নেই, কিন্তু তাঁর অনুভূতিতে কোনও ঘাটতি নেই। বরং বলা যায়, অন্যেরা যেখানে ভাষার সাহায্যে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করে, সুভা সেখানে চোখ, মুখের সামান্য কম্পন, অশ্রু এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের মধ্য দিয়ে নিজের অস্তিত্বকে প্রকাশ করে। সুভার চুপকথার অস্ত্র তাঁর সংবেদনশীল মন|

এখানেই ‘সুভা’ (Subha) গল্পে নারীর বর্ণনা একটি বিশেষ তাৎপর্য পায়। সুভার শরীরকে রবীন্দ্রনাথ নিছক সৌন্দর্যের বস্তু করে তোলেননি; তাঁর চোখকে তিনি করে তুলেছেন তাঁর আত্মার অনুরণন। একটি মেয়ের ‘কথা বলার ক্ষমতা’ না থাকলেও তাঁর অনুভব করার ক্ষমতা যে অসীম হতে পারে—এই সহজ অথচ গভীর সত্যটিকে রবীন্দ্রনাথ গল্পের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন।

File Photo: IANS

কিন্তু সুভাকে  (Subha) সমাজ কীভাবে দেখে? সে বড় যন্ত্রণা। নিজের প্রতিবন্ধকতাকে প্রথমে যতটা না নিজের সমস্যা হিসেবে দেখেছে, তার চেয়ে বেশি অন্যের চোখে নিজেকে ‘সমস্যা’ হিসেবে দেখতে শিখেছে। সে অনুধাবন করে, তাঁর নীরবতা পরিবারকে বিব্রত করে, তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়, তাঁর উপস্থিতি যেন বাড়ির উপর একটি অদৃশ্য বোঝা। গল্পে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ছোট মেয়েটি পিতামাতার ‘নীরব হৃদয়ভারের মতো’ হয়ে আছে। এই একটি অনুভূতির মধ্যেই তৎকালীন সমাজে একজন প্রতিবন্ধী কন্যার অবস্থানের নির্মম বাস্তবতা ধরা পড়ে। আর এখানেই আসে গল্পের অন্যতম জটিল নারীচরিত্র—‘সুভার মা’।

রবীন্দ্রনাথ সুভার (Subha) মাকে কোনও দীর্ঘ সংলাপ দেননি, তাঁর ব্যক্তিগত মনোজগতেরও বিস্তৃত বিবরণ দেননি। কিন্তু কয়েকটি বাক্যের মধ্যেই তিনি এক গভীর সামাজিক মনস্তত্ত্ব উন্মোচন করেছেন। সুভার মা নিজের মেয়ের প্রতিবন্ধকতাকে শুধু মেয়ের সমস্যা হিসেবে দেখেন না; সেটিকে নিজেরও ত্রুটি ও লজ্জা হিসেবে অনুভব করেন। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, কন্যার অসম্পূর্ণতাকে মা অনেক সময় নিজের অসম্পূর্ণতা বলে মনে করেন। ফলে সুভার মা মেয়েটির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার বদলে তাকে নিজের ‘কলঙ্ক’ হিসেবে দেখতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন:  রাইটার্স বিল্ডিংসে ফিরছে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়, ছয় মন্ত্রীর ঘর তৈরি করছে পূর্তদপ্তর

আরও পড়ুন: পর্ব ১: ‘মণিহারা’ গল্পে মণিমালিকা, যে নারীর কাছে স্বামী আলাদীনের জিনি!

নিজের সন্তানের প্রতি মায়ের এমন মনোভাব পাঠকের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সুভার মায়ের আচরণকে শুধু ‘নিষ্ঠুর মায়ের’ আচরণ বলে সরিয়ে দিলে গল্পের সামাজিক তাৎপর্য কমে যায়। তিনি নিজেও সেই সমাজব্যবস্থার তৈরি একজন নারী। যে সমাজে মেয়ের বিয়ে, সৌন্দর্য, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং পারিবারিক সম্মান—সবকিছু পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, সেখানে একটি কন্যার শারীরিক বা সামাজিক ‘অসম্পূর্ণতা’ মায়ের কাছেও আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারে। সুভার মা তাই একই সঙ্গে একজন মা এবং সেই সামাজিক মানদণ্ডের বাহক, যে মানদণ্ড শেষ পর্যন্ত নিজের মেয়েকেই প্রত্যাখ্যান করতে শেখায়।

অন্যদিকে, সুভার (Subha) বাবা বাণীকণ্ঠের অবস্থান কিছুটা আলাদা। তিনি মেয়েটিকে অন্য দুই মেয়ের তুলনায় বরং বেশি ভালোবাসেন। এই বৈপরীত্যটিও গুরুত্বপূর্ণ। একই পরিবারের মধ্যে একজন কন্যাকে নিয়ে পিতা ও মাতার দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। ফলে সুভার সংকট শুধু ‘পরিবার বনাম মেয়ে’ নয়; পরিবারের ভিতরেও তার জন্য ভালোবাসা ও লজ্জা, মমতা ও সামাজিক ভয়ের দ্বন্দ্ব কাজ করে।

সুভার দুই দিদি—সুকেশিনী ও সুহাসিনী—গল্পে সরাসরি উপস্থিত নয় বললেই চলে। কিন্তু তাঁদের অস্তিত্বও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের নাম, তাঁদের বিয়ে হয়ে যাওয়া এবং সুভার (Subha) থেকে তাঁদের স্বাভাবিক সামাজিক জীবনের দূরত্ব সুভার অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে। একই পরিবারের দুই কন্যা যখন সমাজের স্বীকৃত পথ ধরে বিবাহিত জীবনে চলে যায়, তখন তৃতীয় কন্যা সুভা সেই একই সামাজিক কাঠামোর কাছে ‘অযোগ্য’ হয়ে পড়ে। অনুপস্থিত দুই নারীও সুভার জীবনের পটভূমি, বৈপরীত্যের আখ্যান নির্মাণ করেন।

Image: AI নির্মিত

রবীন্দ্রনাথের নারীচিত্রণের আর একটি অসাধারণ দিক হল—সুভাকে (Subha) তিনি মানুষের জগতের চেয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে গেলেন। গ্রামের নদী, গাছপালা, পাখি, নিস্তব্ধ দুপুর—সবকিছু যেন তাঁর সঙ্গে কথা বলে। মানুষ যেখানে তাঁর নীরবতাকে অস্বস্তিকর বলে মনে করে, প্রকৃতি সেখানে তাঁর নীরবতাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে| প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান ভাষা হয়ে ফোটে। সুভা নদীর ধারে বসে থাকে| চারপাশের শব্দ, মাঝির গান, পাখির ডাক, গাছের মর্মর—সব মিলিয়ে প্রকৃতিই যেন তাঁর হয়ে কথা বলে। ধরা দেয় চুপ কথা হয়ে|

এখানে রবীন্দ্রনাথ একটি অসাধারণ বিপরীত বিন্যাস তৈরি করেছেন—ভাষাক্ষম মানুষ সুভাকে (Subha) বুঝতে পারে না, অথচ ভাষাহীন প্রকৃতি তাকে বুঝতে পারে।এই কারণেই সুভার সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক নিছক রোমান্টিক নয়। এটি তাঁর অস্তিত্বের আশ্রয়। মানুষের সমাজ তাঁকে যে পরিচয় দেয়—‘বোবা’, ‘অপূর্ণ’, ‘বোঝা’—প্রকৃতি তাঁকে সেই পরিচয়ে চেনে না। নদীর কাছে সে শুধু সুভা। গাছের কাছে  শুধুই একটি কিশোরী। আকাশের কাছে তাঁর কোনও প্রতিবন্ধকতা নেই। অসীমে হারিয়ে যায় প্রাণের স্পন্দন|

আরও পড়ুন:  পদত্যাগ করলেন ঝালদার পুরপ্রধান, হঠাৎ কেন এমন পদক্ষেপ করলেন?

আর এই প্রকৃতির সঙ্গেই তার নারীসত্তার একটি গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। সুভা বড় হচ্ছে। তাঁর শরীর, অনুভূতি, ভালোবাসা—সবই বিকশিত হচ্ছে। কিন্তু সমাজ তাঁর অন্তর্জগতের দিকে তাকায় না; তাকায় তাঁর বিয়ে হবে কি না, তাঁকে গ্রহণ করবে কে, তাঁর ‘অপূর্ণতা’ কীভাবে গোপন করা যায়। ফলে তাঁর নারী হয়ে ওঠার স্বাভাবিক যাত্রাটি সমাজের হাতে এসে পরিণত হয় এক নির্মম পরীক্ষায়। অথচ যাঁরা কথা বলতে পারে, তাঁরা তাঁর কথা শুনতে চান না।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: বিপ্লবীদের ধরতে গুপ্তচররা কুঠুরিতে লুকিয়ে থাকত, ক্ষুদিরাম আসতেন এই পুজোয়, জানেন কোন সেই পুজো

সুভার চোখ কথা বলে। তাঁর কান্না কথা বলে। তাঁর প্রকৃতির কাছে ছুটে যাওয়া কথা বলে। পশুপাখির প্রতি তাঁর মমতা কথা বলে। এমনকি বিদায়ের মুহূর্তে তাঁর অশ্রুও এক দীর্ঘ বাক্যের মতো হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত যখন সুভাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তখন সে তাঁর পরিচিত পৃথিবী—প্রকৃতি, নদী, তার বাল্যসঙ্গীদের—ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। বিদায়ের মুহূর্তে তাঁর কান্না যেন সমস্ত অব্যক্ত জীবনের প্রতিবিম্ব হয়ে ওঠে| রবীন্দ্রনাথের নারীচিত্রণের শক্তি এখানেই। তিনি সুভাকে করুণার পাত্র করে থামেননি। তাঁর নীরবতার মধ্যে দিয়েই তাঁকে এক গভীর মর্যাদা দিয়েছেন। সমাজ যাকে ‘অসম্পূর্ণ’ বলে চিহ্নিত করেছে, সাহিত্য তাকে করে তুলেছে সম্পূর্ণ অনুভবের মানুষ।

Image: AI নির্মিত

আর সুভার মা? তাঁর চরিত্রটি আমাদের আরও একটি কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়—একজন মা কি সবসময় সমাজের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সন্তানের পাশে থাকতে পারেন? রবীন্দ্রনাথ সহজ উত্তর দেননি। বরং দেখিয়েছেন, সমাজের মূল্যবোধ কখনও কখনও এত গভীরে ঢুকে যায় যে একজন নারী নিজেই নিজের কন্যার উপর সেই মূল্যবোধের প্রহরী হয়ে ওঠেন।

এই কারণেই ‘সুভা’ গল্প আজকের সমাজেও প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পায়। সময় বদলেছে, ভাষা বদলেছে, সমাজের অনেক কাঠামো বদলেছে; কিন্তু ‘স্বাভাবিক’ এবং ‘অস্বাভাবিক’-এর সামাজিক সংজ্ঞা, নারীর শরীর ও জীবনের উপর সমাজের অধিকার, এবং পরিবারের সম্মানের সঙ্গে কন্যার জীবনকে জুড়ে দেওয়ার প্রবণতা—এই প্রশ্নগুলি এখনও প্রেক্ষাপট অনুসারে বুঝিয়ে দেয়, সমাজ আজও বদলায়নি ।

১৮৯০ সালের পরে রবীন্দ্রনাথকে পূর্ববঙ্গের শিলাইদহ, শাহজাদপুর অঞ্চলে পারিবারিক জমিদারী রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির কাজে যেতে হতো| সেই সময় বাংলার গ্রাম্য জীবনের মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা এবং জীবনযাত্রার কাছাকাছি আসার সুযোগ পেলেন সাহিত্যের নবভগীরথ| ১৮৯২ সালে সাধনা পত্রিকায় প্রথম ‘সুভা’ গল্পটি প্রকাশ পায়| সুভার প্রকৃতির কাছে আসা, পারিবারিক সম্পর্কের ইতিবৃত্ত, শেষ পর্যন্ত কলকাতায় যাওয়ার কথা, হয়তো এই সবকিছুই কোনও সত্যি মেয়ের জীবন থেকে সংগ্রহ করেছিলেন তিনি| নাম পরিচয় লিখে রাখা নেই, বেঁচে রয়েছে শতক অতিক্রম করে| ‘সুভা’ গল্প আজও এমন অনেক সমাজ চিত্রে বিমুখ মানুষের কষ্টের চুপ কথা ভাষায় ব্যক্ত করে|

দেখুন:

Suman Debnath

Journalist

Related Stories

ফিনল্যান্ডে ১৩০০ কোটি ইউরোর প্রজেক্ট ঘিরে প্রবল বিতর্ক, জঙ্গল কেটে গুগলের ডেটা সেন্টার গড়ার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ

ফিনল্যান্ডে ১৩০০ কোটি ইউরোর প্রজেক্ট ঘিরে প্রবল বিতর্ক, জঙ্গল কেটে গুগলের ডেটা সেন্টার গড়ার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ

গাড়ির তেল বানাতে চলে যাচ্ছে বাচ্চা-মুরগির খাবার! কালীপুজো কাটতেই ডিম ও চিকেনের দাম ৩০% বাড়ার আশঙ্কা

গাড়ির তেল বানাতে চলে যাচ্ছে বাচ্চা-মুরগির খাবার! কালীপুজো কাটতেই ডিম ও চিকেনের দাম ৩০% বাড়ার আশঙ্কা

কালীপুজোয় সকাল থেকে মেট্রো, কখন শেষ ট্রেন? রাতেও মিলবে বাড়তি পরিষেবা

কালীপুজোয় সকাল থেকে মেট্রো, কখন শেষ ট্রেন? রাতেও মিলবে বাড়তি পরিষেবা

কালীপুজোর আগেই সুখবর! কলকাতা পুলিশে ৩০৯ জনের নিয়োগ, নিয়োগপত্র দেবেন মুখ্যমন্ত্রী

কালীপুজোর আগেই সুখবর! কলকাতা পুলিশে ৩০৯ জনের নিয়োগ, নিয়োগপত্র দেবেন মুখ্যমন্ত্রী

২০ শতাংশের বদলে পেট্রলে মিলল ৩১ শতাংশ ইথানল: দেদার মুনাফা লোটার প্রমাণ হাতে আসতেই কেন্দ্রের জবাব তলব

২০ শতাংশের বদলে পেট্রলে মিলল ৩১ শতাংশ ইথানল: দেদার মুনাফা লোটার প্রমাণ হাতে আসতেই কেন্দ্রের জবাব তলব

দিল্লি হাইকোর্টে স্বস্তি সৌরভের, ‘দূসরা’-র নির্মাতাদের ২ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক গ্যারান্টির নির্দেশ, সঙ্গে সতর্কীকরণ

দিল্লি হাইকোর্টে স্বস্তি সৌরভের, ‘দূসরা’-র নির্মাতাদের ২ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক গ্যারান্টির নির্দেশ, সঙ্গে সতর্কীকরণ

No comments to show.

Leave a Comment