এবার পদত্যাগ করলেন ঝালদা পুরসভার পুরপ্রধান। আর তা নিয়ে রবিবাসরীয় দিনে এলাকায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাজারে পুরপ্রধানের পদত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন পুরুলিয়া জেলার ঝালদা পুরসভার পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়াল। ইতিমধ্যেই ঝালদার মহকুমাশাসকের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। হঠাৎ এমন কী অসুস্থ হলেন যে, পদত্যাগ করলেন? উঠছে প্রশ্ন। পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়াল ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন। গোটা বিষয়টি নিয়ে অন্য কারণ দেখছে দল।
এদিকে সুরেশ আগরওয়াল নিজের পদত্যাগপত্রেই অসুস্থতা-সহ দুটি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এমনকী ওই পদত্যাগপত্রের প্রতিলিপি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী-সহ ওই বিভাগের প্রধান সচিব, পুরুলিয়ার জেলাশাসক এবং ঝালদা পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিকের কাছেও পাঠানো হয়েছে। এই পদত্যাগপত্রের পিছনে কোনও রাজনৈতিক কারণ আছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে একের পর এক পুরসভা, পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ ভেঙে যাচ্ছে। সেখানে বসাতে হচ্ছে প্রশাসক। কলকাতা পুরসভার মতো বড় পুরসভা ভেঙে গিয়েছে। এই গোটা বিষয়টি যখন রাজ্যজুড়ে চলছে তখন নানা প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে ঝালদা পুরসভায় মোট আসন ১২টি। ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ৮টি আসন। আর কংগ্রেস এবং নির্দল পায় দুটি করে আসন। পরে ওই দুই নির্দল কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগ দেন। এভাবেই চলছিল ঝালদা পুরসভা। এখানে পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়াল থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধ একটা গোষ্ঠীও সক্রিয় ছিল। তার মধ্যে উঠে আসে দুর্নীতির অভিযোগ। তখন বিরুদ্ধ গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি প্রতিকূল বুঝতে পেরেই পদত্যাগ করে সরে গেলে সুরেশ আগরওয়াল।
তাছাড়া তৃণমূলের ৫ কাউন্সিলর এবং কংগ্রেসের ২ কাউন্সিলরের সমর্থনে পুরপ্রধান ছিলেন সুরেশ আগরওয়াল। বাকি তৃণমূলের ৫ কাউন্সিলর সুরেশ বিরোধী। কংগ্রেসের কাউন্সিলর পূর্ণিমা কান্দু মারা গিয়েছেন। আর রাজ্যে পালাবদলের পর এই বিরুদ্ধ গোষ্ঠী পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে অভিযোগ। তাতে চাপ বাড়ছিল। তাই বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সুরেশ আগরওয়াল পুরসভায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তার জেরে পুরসভার কাজকর্ম অচল হয়ে পড়েছিল। পুরপরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন ঝালদার সাধারণ মানুষজন। যদিও সুরেশ আগরওয়ালের ছেলে রোহিত আগরওয়াল সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘বাবা ভীষণ অসুস্থ। চিকিৎসকরা বাবাকে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। তাই বাবা পুরপ্রধান ও কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।’
Leave a Comment