যন্তর মন্তরের ঘটনায় তাঁকে ও তাঁর মাকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গভীর রাতের ভিডিও বার্তায় তরুণদের শাস্তির বদলে ক্ষমা ও নৈতিক শিক্ষার উপর জোর দিলেন তিনি।
শুক্রবার গভীর রাতে ফের ভিডিও বার্তা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। রাত প্রায় ১১টা নাগাদ তাঁর সমাজমাধ্যমে পোস্ট হওয়া ভিডিওতে যন্তর মন্তরের ঘটনাকে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, কিছু ‘দুষ্টু’ ছেলে-মেয়ে তাঁকে এবং তাঁর মাকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেছে। তবে ক্ষোভ প্রকাশের বদলে তরুণদের ক্ষমা করে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
ভিডিওর শুরুতেই মোদি বলেন, যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে, তা শুধু দেশের নয়, বিশ্বের বহু মানুষ দেখেছেন। তাঁর অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত কয়েকজন কিশোর-কিশোরী এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনও সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর মাকেও কটূক্তির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির উপরই জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ছোটবেলায় ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সেই ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগও সমাজকেই করে দিতে হবে। তিনি বলেন, তরুণদের প্রতি ঘৃণা নয়, বরং সঠিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়াই বড় দায়িত্ব।
সংস্কৃতির অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোদি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের ভাষা ও আচরণ নিয়ে সকলেরই আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণীদের মুখে অশালীন ভাষা শুনে তিনি উদ্বিগ্ন বলেও মন্তব্য করেন।
ভিডিওর শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই ছেলেমেয়েদের আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়া বা শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং তাঁদের কাছে টেনে নিয়ে সঠিক পথ দেখানোই সমাজের কর্তব্য। তাই তিনি তাঁদের ক্ষমা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সকলকে একসঙ্গে ইতিবাচক সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই ভিডিও প্রকাশের পর তা ঘিরে রাজনৈতিক মহল এবং সমাজমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে সমর্থকরা তাঁর ক্ষমার বার্তাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করছেন, অন্যদিকে বিরোধী শিবির থেকেও নানা প্রতিক্রিয়া সামনে আসছে।
Leave a Comment