দিল্লিতে কেন্দ্র ও CJP-র এক ঘণ্টার বৈঠকে শিক্ষা সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। তিন দাবির মধ্যে দু’টিতে ইতিবাচক সাড়া মিললেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রশ্নে জট কাটেনি।
দিল্লিতে কেন্দ্র সরকার ও ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party-CJP)-র উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হল। প্রায় এক ঘণ্টার আলোচনার পর CJP-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের উত্থাপিত তিনটি মূল দাবির মধ্যে দু’টি নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে কেন্দ্র। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগের দাবিতে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এই বিষয়ে সরকারের জবাবের জন্য শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন।
শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব (Constitution Club)-এর ভিপি রুমে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh)। CJP-র তরফে উপস্থিত ছিলেন দলের দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা (Ashutosh Ranka)। বৈঠকে শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে নিজেদের লিখিত প্রস্তাবও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেন CJP নেতারা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, পরীক্ষা বাতিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রাণ হারানো পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তথাকথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে কেন্দ্র ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তাঁর দাবি, এই দুই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস মিলেছে।
তবে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ—নিয়ে এখনও ঐকমত্য তৈরি হয়নি। সৌরভ দাস জানান, এই ইস্যুতে সরকারকে আগামী শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রশ্নে কোনও আপস হবে না। এটি আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অ-আলোচনাযোগ্য (Non-negotiable) দাবি।”
এদিকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার এই উদ্যোগকে চলমান অচলাবস্থা কাটানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর শনিবার সরকারের পরবর্তী অবস্থান এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকেই।
Leave a Comment