উত্তম কুমারের ৪৭তম প্রয়াণ দিবসে কেওড়াতলায় আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করে মহানায়কের নামে ফিল্ম সেন্টার গড়ার ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেপ্টেম্বরে জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচিরও রূপরেখা প্রকাশ।
কলকাতা: চার দশক পেরিয়েও বাঙালির আবেগে সমান উজ্জ্বল মহানায়ক উত্তম কুমার (Uttam Kumar)। তাঁর ৪৭তম প্রয়াণ দিবসে শুক্রবার কেওড়াতলা মহাশ্মশান (Keoratala Crematorium)-এ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনের পাশাপাশি তিনি জানান, মহানায়কের নামে কলকাতায় গড়ে তোলা হবে একটি ফিল্ম সেন্টার এবং আধুনিকীকরণ করা হবে উত্তম মঞ্চ। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ শতবর্ষ উদযাপনের কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার দুপুরের আগেই কেওড়াতলা মহাশ্মশানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। মহানায়কের স্মৃতির উদ্দেশে আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর তিনি তাঁর অবদান স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta), রূপা গঙ্গোপাধ্যায় (Roopa Ganguly), পাপিয়া অধিকারী (Papiya Adhikari), রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh), উত্তম কুমারের নাতনি নবনীতা চট্টোপাধ্যায় (Nabanita Chattopadhyay)-সহ শিল্প-সংস্কৃতি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই মহানায়কের জন্মদিনকে আরও বৃহত্তর পরিসরে উদযাপনের রূপরেখা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তম কুমারের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ শতবর্ষ উদযাপন কর্মসূচি পালিত হবে। এই আয়োজনের জন্য রবীন্দ্রসদন (Rabindra Sadan)-এ একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হবে, যারা সার্বিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে।
শুধু অনুষ্ঠান নয়, মহানায়কের স্মৃতিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যেও বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতায় উত্তম কুমারের নামে একটি আধুনিক ফিল্ম সেন্টার তৈরি করা হবে। পাশাপাশি কলকাতা পৌরসভা (Kolkata Municipal Corporation) পরিচালিত উত্তম মঞ্চের আধুনিকীকরণের কাজও হাতে নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মহানায়কের উত্তরাধিকার আরও সুসংহতভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়।
বক্তব্যের শেষে মহানায়কের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা সিনেমার ইতিহাসে উত্তম কুমারের অবদান চিরস্মরণীয়। তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা আগামী দিনে বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
Leave a Comment