‘জ্যোতিবাবু-বুদ্ধবাবু-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশকে এমন দেখিনি’, সুর বদল হুমায়ুনের

By Suman Debnath

October 8, 2026 12:40 PM

‘জ্যোতিবাবু-বুদ্ধবাবু-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশকে এমন দেখিনি’, সুর বদল হুমায়ুনের


উপনির্বাচন মিটে গিয়েছে। তারপরই ঘোষণা করেছিলেন, রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে কুরুচিকর কথাবার্তা বলেছিলেন। কিন্তু রেজিনগরের উপনির্বাচন মিটে যেতে বুঝতে পেরেছে ওই আসনে তাঁর ছেলে জিতবেন না। তাই রিগিং হয়েছে বলে দাবি তুলেছেন। পুলিশের সঙ্গে মস্তানি করতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু এসব করে শেষে রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। যদিও নিজের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি তিনি। এখনও তিনি নওদার বিধায়ক। এই আবহে হঠাৎই জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশের প্রশংসা করে বসলেন হুমায়ুন কবীর।

তাঁর এমন মন্তব্যের পর থেকেই রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই দাবাং মেজাজ উধাও হয়ে গিয়েছে হুমায়ুনের। আর তিন প্রাক্তন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করে বসলেন। যদিও তার মধ্যে দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত হয়েছেন। আর এখন বিরোধী শিবিরে বসে লড়াই করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কদিন আগে বিদ্রোহী বিধায়কদের ঘরে ফেরার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর তারপরই হুমায়ুনের এমন মন্তব্য জোর চর্চা ফেলে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তাহলে কি আবার তৃণমূলে ফিরতে চলেছেন তিনি? এমন প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। যদিও হুমায়ুন কবীরের নিজের দল আছে- আমজনতা উন্নয়ন পার্টি।

আরও পড়ুন:  ২১ জুলাই সমাবেশের অনুমতি হাইকোর্টের, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে করার নির্দেশ

হুমায়ুন কবীর কংগ্রেসে ছিলেন রাজনীতির শুরুতে। তারপর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। সেখান থেকে বিজেপিতে ঘুরে এসেছেন। তারপর আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নিজের রাজনৈতিক দল গড়ে তোলেন-আমজনতা উন্নয়ন পার্টি। এখন সেখান থেকে মমতা শিবিরে ফেরেন কিনা বা জোট করেন কিনা সেটাও দেখার বিষয়। যদিও পুলিশের কাছে আটক থাকার পর মুক্ত হয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘কোনও দিন নির্লজ্জের মতো পুলিশকে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট লুট করতে দেখিনি। জ্যোতিবাবু-বুদ্ধবাবু-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশকে এমন দেখিনি। এটা কোন রাজত্ব? মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিচারিতা, মিথ্যাচার এবং গণতন্ত্রকে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে আমি আপাতত বিধানসভা বয়কট করলাম।’

সে না হয় বিধানসভা বয়কট করলেন। রাজনীতি ছাড়বেন কি? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য এদিন দেননি। আগে যা বলেছিলেন তা দ্বিতীয়বার মুখে আনেননি। এখান থেকেই নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আর এই মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল এবং বিজেপি শিবিরের নেতারা। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘ওই সব নাটক। দেখাতে হয়। বিজেপি কীভাবে ভোট পাবে, সেটাই করছে হুমায়ুন কবীর।’ আর রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের বক্তব্য, ‘এরকম বড় বড় কথা আগেও বহুবার বলেছে। ওঁর বাড়তি কথা বলার অভ্যাস আছে।’

আরও পড়ুন:  দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলার ছৌ নৃত্যের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থাপনা

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment