রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন বৃদ্ধির দাবি ফের জোরালো হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রাক্তন বিধায়করা এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু-র কাছে আবেদন জানাতে চলেছেন। শুক্রবার বিধানসভায় হওয়া বৈঠকে পেনশনের অঙ্ক বাড়ানো থেকে শুরু করে এমএলএ হস্টেলের ভাড়া কমানোর মতো একাধিক বিষয় নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিরা।
বিধানসভা সূত্রের খবর, বৈঠকে শুধু বাম বা কংগ্রেস নয়, তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়করাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান পেনশনের টাকায় চিকিৎসা, সংসার ও দৈনন্দিন খরচ চালানো ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। অনেকেই গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন, আবার অনেকের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত সংকটজনক।
প্রাক্তন বিধায়কদের দাবি, দেশের একাধিক রাজ্যে তাঁদের পেনশনের পরিমাণ পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অনেক বেশি। মহারাষ্ট্রে যেখানে প্রাক্তন বিধায়কেরা ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পান, ঝাড়খণ্ডে সেই অঙ্ক ৪০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা। উত্তরাখণ্ড ও কর্নাটকেও প্রায় একই পরিমাণ ভাতা দেওয়া হয়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে এখনও পেনশনের পরিমাণ মাত্র ১৪ থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
এই দাবি অবশ্য নতুন নয়। আগের সরকার থাকাকালীনও বহুবার পেনশন বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তৎকালীন সরকারের কাছে প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
এবার সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয়েছেন প্রাক্তন বিধায়করা। বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ও অধ্যক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর প্রস্তাব, প্রাক্তন বিধায়কদের ন্যূনতম মাসিক পেনশন ৫০ হাজার টাকা করা হোক। বিষয়টি নিয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে বলেও সূত্রের দাবি।
শুধু পেনশন নয়, এমএলএ হস্টেলের ভাড়াও আলোচনায় উঠে এসেছে। বিভিন্ন সময় দলীয় বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে জেলা থেকে কলকাতায় এলে প্রাক্তন বিধায়কদের ওই হস্টেলে থাকতে হয়। বর্তমানে প্রতি রাতের জন্য ৬০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। এই অঙ্ক কমানোর দাবি তুলেছেন প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী।
এখন নজর মুখ্যমন্ত্রী ও বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে। প্রাক্তন বিধায়কদের দাবি কতটা গুরুত্ব পায় এবং পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই আগামী দিনে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার অন্যতম বিষয় হতে চলেছে।
Leave a Comment