হিংসাত্মক উপায়ে শাসনব্যবস্থা বদলের চেষ্টা বা সেই সংক্রান্ত কার্যকলাপে যুক্ত থাকলে উত্তরপ্রদেশে সরকারি চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে। সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের চরিত্র যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করল যোগী আদিত্যনাথের সরকার। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের নিয়োগ ও কর্মীবর্গ দপ্তরের মুখ্যসচিব এম দেবরাজ এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তর, নিগম, পরিষদ ও স্থানীয় সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। তবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে চাকরির অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না বলে স্পষ্ট করেছে সরকার।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২১ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর চরিত্র যাচাইয়ের ঠিক আগের তিন বছরের মধ্যে কোনও প্রার্থী হিংসাত্মক উপায়ে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করে থাকলে তাঁকে এখনও ওই কার্যকলাপে যুক্ত বলে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তনের অকাট্য প্রমাণ মিললে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে। শুধু এফআইআর দায়ের হওয়া বা কোনও মামলা তদন্তাধীন থাকার কারণেও কাউকে অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না। আদালতে বেকসুর খালাস পাওয়া বা আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
নতুন বিধি অনুযায়ী, জেলা পুলিশ ও লোকাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে অনুরোধ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে চরিত্র যাচাইয়ের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। রিপোর্টে কোনও বিরূপ তথ্য থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। যাচাইয়ের রিপোর্ট আসতে দেরি হলে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক নিয়োগপত্রও দেওয়া যেতে পারে। তবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা অযোগ্যতা প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
এই নির্দেশিকা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র উদয়বীরের অভিযোগ, স্বাধীন ভারতে প্রতিবাদ করা সাংবিধানিক অধিকার। তাঁর মতে, ব্রিটিশ আমলের মতো ফরমান জারি করে সরকার তরুণ প্রজন্মকে ভয় দেখাতে চাইছে। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণে সরকার কি বিচারকের ভূমিকা নিতে পারে ? তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দেশে আদালত রয়েছে।
Leave a Comment