টুলু ও হামিম গ্রেফতারের ঘটনায় বিজেপি ও তৃণমূলকে নিশানা সিপিএমের

By Suman Debnath

August 2, 2026 8:15 PM

টুলু ও হামিম গ্রেফতারের ঘটনায় বিজেপি ও তৃণমূলকে নিশানা সিপিএমের


সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য রবিবার আসানসোলে এসে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বীরভূমের বাসিন্দা পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ইস্যুতে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন।সৃজন ভট্টাচার্য আরো বলেন, তৃণমূল শাসনকালে যারা চোর ও ডাকাতদের নেতা ছিল, তারা বিজেপির শাসনকালে শাস্তি পাচ্ছে না। পাড়ায় পাড়ার কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যে সাংসদদেরকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ, তারা এখন বিজেপির সঙ্গে চুক্তি করে তৃণমূলে আরামে আছেন।

তা ছাড়াও বর্ধমানে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফের হাতে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন সন্ত্রাসবাদী ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদী ধরা পড়েছে। এটা সরকার ও পুলিশ মন্ত্রীর দায়িত্ব। যদি সে যন্তর মন্তরে ষড়যন্ত্র চালানোর পরিকল্পনা করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত এবং ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:  সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা শুভেন্দু সরকারের, রাখির উপহার মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা

তবে, ভবিষ্যতে এর ভিত্তিতে কোনো বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ করতে দেওয়া হবে না। জনগণ এটা মেনে নেবে না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাজ্য ও গোটা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা নেওয়া হবে না।

টুলু মণ্ডলের আসল নাম নাজিবুদ্দিন মণ্ডল। এই টুলু মণ্ডলের সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের যোগাযোগ ছিল বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। টুলু মণ্ডলের কালো টাকা এবং সম্পত্তি রাখতে দেওয়া হয়েছিল মিনার মণ্ডলের কাছে। এই আবহে দুবাইয়ে মেয়ে-জামাইয়ের কাছে গিয়েছেন টুলু। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে খবর, টুলু মণ্ডলের পার্কিংয়ের জমির মধ্যে রয়েছে সরকারি খাস জমিও। টুলুর পাথরের ব্যবসা কোনও ট্রেড লাইসেন্সও নেই।

আরও পড়ুন:  উইকএন্ডেও ভাসবে দক্ষিণবঙ্গ! উত্তরে জারি কমলা সতর্কতা, কলকাতায় কী পরিস্থিতি?

অন্যদিকে হামিম মণ্ডলকে হেফাজতে পেয়ে দফায় দফায় জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেল রাজ্য এসটিএফ। বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিল জামাতুল মুজাহিদীন গোষ্ঠী। দুবাইতে ডেকে নিয়ে গিয়ে সেই অ্যাসাইনমেন্ট দেবার কথা ছিল হামিমকে।

তদন্তে উঠে এসেছে, পাক জঙ্গি সদস্য হামিম মণ্ডল গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর নির্দেশমতো সব কাজ করত। সেই মতো তৈরি করা হত ব্লু – প্রিন্ট। কিছুদিনের মধ্যেই হামিমের দুবাই যাবার পরিকল্পনা ছিল। বৈঠক হবার কথা ছিল ভাট্টি গোষ্ঠীর এক নেতার সঙ্গে।তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন ওই বৈঠকেই হামিমকে একটি বড় অ্যাসাইনমেন্ট দেবার কথা ছিল। তবে শুধু বৈঠক নয় কয়েকদিন আয়েশে থেকে তারপর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করত হামিম। তবে কি সেই নাশকতামূলক কাজ, এখন সেটাই জানতে তৎপর তদন্তকারীরা।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment