বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট আলোচনায় সিকিমের সুড়ঙ্গে ধস এবং গভীর সমুদ্রে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্য ও চাকরির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, কোনও অর্থই প্রাণহানির ক্ষতিপূরণ হতে পারে না। তবুও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে। দু’টি ঘটনাতেই নিহতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি ট্রলার দুর্ঘটনায় মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিও দেওয়া হবে।
সিকিমের নামচি জেলার সমরডুং এলাকায় এনএইচপিসির তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে মঙ্গলবার দুপুরে ভয়াবহ মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণ ও ধস নামে। মিথেন গ্যাস লিকের জেরে এই ঘটনা ঘটে। এখনও পর্যন্ত দুর্ঘটনায় ২০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। টানেলের ভিতরে আরও কয়েকজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিষাক্ত গ্যাস, অক্সিজেনের অভাব এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির জেরে উদ্ধারকার্যে সমস্যা হচ্ছে। এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, কোল ইন্ডিয়া, পুলিশ, দমকল ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের আইজি সুকেশ কুমার জৈন জানান, পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং শীর্ষ আধিকারিকরা শুরু থেকেই সিকিম প্রশাসনের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। উত্তরবঙ্গের মৃত ও আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের অকুস্থলে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং অশনাক্ত মরদেহ চিহ্নিতকরণসহ সমস্ত প্রক্রিয়ায় সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
সিকিমের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের মধ্যে ১১ জনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁদের বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলায়। ৯ জনই মালবাজার এলাকার বাসিন্দা। আটকে থাকা শ্রমিকদের মধ্যেও থাকতে পারেন বাংলার অনেকে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই রাজ্য সরকারের নিজস্ব বিমান পাঠানো হয়েছে। সেই বিমানে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রধান সচিব রাজেশ সিনহা, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা এবং নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরাকে সিকিমে পাঠানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারকে তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেছেন, ‘রাজ্য সরকারের কাছে একটিই হেলিকপ্টার আছে। একসময় এক সম্রাজ্ঞী সেটি একা ব্যবহার করতেন, অন্য কাউকে ছুঁতেও দেওয়া হত না। আমরা কিন্তু সেই হেলিকপ্টারে করেই মন্ত্রী এবং আধিকারিকদের দ্রুত সিকিমে উদ্ধারকাজের তদারকিতে পাঠিয়েছি।’ ঘটনার উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। নিহতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
অন্যদিকে, গত ২ জুলাই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে শঙ্করপুরের একটি ট্রলার নিখোঁজ হয়। পাঁচদিন পর কাকদ্বীপের বাঘেরচরের কাছে উল্টে থাকা অবস্থায় ট্রলারটির সন্ধান মেলে। এখনও পর্যন্ত ১১ জন মৎস্যজীবীর পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছে। আরও চারজন এখনও নিখোঁজ। বিধানসভায় রামনগরের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বিষয়টি উত্থাপন করলে মুখ্যমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, মৃত মৎস্যজীবীদের অধিকাংশই হাওড়া, নদিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একজন সদস্যকে স্থানীয় থানায় সিভিক ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগ করা হবে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দেন, সিকিম বিপর্যয় ও ট্রলার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের পাশে থাকবে রাজ্য সরকার।
Leave a Comment