নজরবন্দি ব্যুরো: বিহারের (Bihar) বাঁকিপুর (Bankipur) বিধানসভা উপনির্বাচনে ক্রমশ শক্ত অবস্থানে চলে যাচ্ছেন জন সুরাজ পার্টির (Jan Suraaj Party) প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। ৩১টির মধ্যে ১০ রাউন্ডের গণনা শেষে তিনি ২০,০৫৯ ভোট পেয়ে বিজেপির (Bharatiya Janata Party) প্রার্থী নীরজ কুমারকে ৬,০১১ ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin)-এর ছেড়ে যাওয়া এই আসনে এমন ট্রেন্ড রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন ২০,০৫৯ ভোট। বিজেপির নীরজ কুমারের ঝুলিতে রয়েছে ১৪,০৪৮ ভোট। ফলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬,০১১ ভোটে। আরজেডি (Rashtriya Janata Dal)-র রেখা কুমারী রয়েছেন তৃতীয় স্থানে, তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৩,৯৮৩।
বাঁকিপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই বিজেপির বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন প্রায় ৬২.৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ৫২ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর পদত্যাগের জেরেই এই উপনির্বাচন।
সেই প্রেক্ষাপটে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের ধারাবাহিক লিড বিজেপির জন্য নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর। কারণ, এই আসনটি শুধুমাত্র একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়, বিজেপির রাজনৈতিক মর্যাদার সঙ্গেও জড়িত। ফলে এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় লোক জনশক্তি পার্টির তনভির আলম পেয়েছেন ৪০১ ভোট। প্রগতিশীল জনতা পার্টির মনোরঞ্জন কুমার শ্রীবাস্তব পেয়েছেন ২৬৮ ভোট। ভারতীয় আওয়াম পার্টির প্রদীপ কুমার পেয়েছেন ২৫৬ ভোট। বাকি প্রার্থীদের ভোট এখনও উল্লেখযোগ্য ব্যবধান তৈরি করতে পারেনি।
তবে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। মোট ৩১টি রাউন্ডের মধ্যে ১০টি রাউন্ডের ফল প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ এখনও ২১টি রাউন্ডের গণনা বাকি। ফলে প্রশান্ত কিশোর এই বড় ব্যবধান ধরে রাখতে পারবেন, নাকি শেষ দিকে বিজেপি ঘুরে দাঁড়াবে, তার উত্তর মিলবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরই।
বাঁকিপুরের এই উপনির্বাচন এখন শুধু একটি আসনের ফল নয়, বরং বিহারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতারও বড় পরীক্ষা। তাই প্রতিটি রাউন্ডের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার—সবারই।
Leave a Comment