---Advertisement---

বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের: প্রভিডেন্ট ফান্ড আর পেনশনের বেতনসীমা বাড়ল ১০ হাজার টাকা, উপকৃত ৫১ লক্ষ কর্মী

By Suman Debnath

September 16, 2026 6:40 PM

বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের: প্রভিডেন্ট ফান্ড আর পেনশনের বেতনসীমা বাড়ল ১০ হাজার টাকা, উপকৃত ৫১ লক্ষ কর্মী

---Advertisement---


দীর্ঘ ১২ বছর পর অবশেষে বদলাল নিয়ম। কর্মী ভবিষ্যনিধি (এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফ [EPF]) এবং কর্মী পেনশন প্রকল্পের (এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম বা ইপিএস [EPS]) আওতায় বাধ্যতামূলক নথিভুক্তির বেতনসীমা এবার ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বুধবার এই প্রস্তাবে সবুজ সংকেত মেলে। শ্রম মন্ত্রকের একটি নথি অনুযায়ী, নতুন সীমা কার্যকর হবে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকেই।

কী বদলাচ্ছে

কর্মী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের (ইপিএফও [EPFO]) নিয়ম বলছে, কোনও কর্মী চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় তাঁর বেসিক বেতন যদি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে, তবেই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইপিএফ, ইপিএস এবং কর্মী আমানত সংযুক্ত বিমা প্রকল্পের (এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিঙ্কড ইনস্যুরেন্স স্কিম বা ইডিএলআই [EDLI]) আওতায় চলে আসেন। এতদিন এই সীমা ছিল মাসিক ১৫ হাজার টাকা, যা শেষবার বদলেছিল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে। তারপর থেকে বেতন বেড়েছে, জিনিসপত্রের দামও বহুগুণ বেড়েছে, কিন্তু সরকারি খাতায় এই সীমা একই জায়গায় আটকে ছিল। ফলে বহু কর্মী ১৫ হাজার টাকার সামান্য বেশি বেতন পেয়েও এই সামাজিক সুরক্ষার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছিলেন।

এবার সেই ফাঁকটাই পূরণ করতে চাইছে কেন্দ্র। নতুন নিয়মে মাসিক বেসিক ২৫ হাজার টাকা অবধি থাকা কর্মীরাও এবার থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ইপিএফ এবং ইপিএসের আওতায় চলে আসবেন। সরকারি হিসেব বলছে, এর ফলে প্রায় ৫১ লক্ষ নতুন কর্মী এই সামাজিক সুরক্ষার আওতায় প্রবেশ করবেন।

সুপ্রিম কোর্টের চাপেই কি সিদ্ধান্ত

এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের। চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত কেন্দ্র এবং ইপিএফওকে চার মাসের মধ্যে বেতনসীমা পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিল। মামলাকারীর যুক্তি ছিল, ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে অপরিবর্তিত থাকা ১৫ হাজার টাকার সীমা এখনকার মূল্যবৃদ্ধি বা ন্যূনতম মজুরির সঙ্গে কোনওভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই নির্দেশের পরই ফাইল নড়াচড়া শুরু করে, আর শেষমেশ অর্থ মন্ত্রক ও শ্রম মন্ত্রকের আলোচনার পর ৩০ হাজার টাকার বদলে ২৫ হাজার টাকার সীমাতেই রফা হয়।

সরকারের খরচ কত, কারা লাভবান

সরকারি সূত্রের হিসেব বলছে, আগামী পাঁচ বছরে এই সিদ্ধান্ত রূপায়ণে কেন্দ্রের খরচ হবে আনুমানিক ৫৬ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। বর্তমানে ইপিএফওর আওতায় প্রায় ৭ কোটি ৯৮ লক্ষ অবদানকারী সদস্য এবং প্রায় ৭ লক্ষ ৬৮ হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে, আর ইপিএসের আওতায় পেনশন পান প্রায় ৮২ লক্ষ প্রবীণ। নতুন সীমা কার্যকর হলে এই সংখ্যাটা আরও অনেকটা বাড়বে।

যাঁদের বেতন নতুন সীমার আওতায় আসছে, তাঁদের প্রতি মাসে বেসিক বেতনের ওপর কাটা টাকার পরিমাণ বাড়বে ঠিকই, কিন্তু বিনিময়ে তাঁরা পাবেন নিয়মিত প্রভিডেন্ট ফান্ডের সঞ্চয়, ইপিএস পেনশনের যোগ্যতা এবং ইডিএলআই বিমার সুরক্ষা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এতে পেনশনযোগ্য বেতনের ভিত্তিটাই বদলে যাবে, যার ফলে অবসরের পর মাসিক পেনশনের অঙ্কও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।

বাংলার শ্রমিকদের জন্য কী অর্থ বহন করছে এই সিদ্ধান্ত

পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, টেক্সটাইল, চর্মশিল্প এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে কর্মরত, যেখানে বেসিক বেতন প্রায়ই ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যেই ঘোরাফেরা করে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি বা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মতো শিল্পাঞ্চলে কর্মরত এই বিপুল কর্মীগোষ্ঠী এতদিন সরকারি ভবিষ্যনিধি ও পেনশনের সুরক্ষার বাইরে থেকে গিয়েছিলেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তাঁদের একটা বড় অংশ প্রথমবার সংগঠিত সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আসবেন, যা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও আর্থিক নিরাপত্তার দিক থেকে বড় প্রাপ্তি বলেই মনে করছেন শ্রম বিশেষজ্ঞরা।

এরপর কী

মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত মিললেও এখনও প্রয়োজন আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ। শ্রম মন্ত্রক এবং ইপিএফও এখন সেই নিয়মকানুন চূড়ান্ত করার কাজে হাত দেবে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা অবশ্য আলাদা পেনশন কাঠামোর আওতায় থাকায় এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব তাঁদের ওপর পড়বে না। বেসরকারি ক্ষেত্রের সংস্থাগুলিকেও নিজেদের বেতন ব্যবস্থা নতুন সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে, যার জন্য কিছুটা প্রস্তুতির সময় দেওয়া হতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment