---Advertisement---

‘চল রাস্তায় সাজি ট্রামলাইন’, জঙ্গি হামিমের সঙ্গে অর্পিতার উদ্দাম প্রেম হার মানাবে সিনেমাকে

By Suman Debnath

August 1, 2026 2:35 PM

‘চল রাস্তায় সাজি ট্রামলাইন’, জঙ্গি হামিমের সঙ্গে অর্পিতার উদ্দাম প্রেম হার মানাবে সিনেমাকে

---Advertisement---


জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডল আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিল। আর তাকে জেরা করেই এসটিএফ জানতে পারে প্রেমিকা অর্পিতা সরকারের নাম। তারপর তাকে ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাস্যময়ী যুবতীর সঙ্গে হামিমের প্রেম কাহিনীও এবার জানতে পারলেন তদন্তকারীরা। এই প্রেম বহুদিনের। কলকাতার রাস্তায় হাত ধরাধরি থেকে হাঁটা এবং ভিক্টোরিয়ার সামনে ঝালমুড়ি খেতে খেতে গল্প সবই হয়েছিল। এমনকী মিলিনিয়াম পার্কে গাছ-গাছালির আড়ালে ঘনিষ্ঠ হওয়া সবই ঘটেছিল। বাবুঘাটে গঙ্গার ঘাটে একে অপরকে সায়াহ্নে জড়িয়ে ধরে সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল এই প্রেমিক যুগল। কিন্তু প্রেমিক যে জঙ্গি।

জঙ্গি বলে কি প্রেম হতে নেই?  প্রেমিকা থাকতে নেই? সারাজীবন তো জঙ্গির কাজ করবে না হামিম মণ্ডল। জীবনের মূলস্রোতে ফিরে আসবে। এমনই কথা দিয়েছিল সে প্রেমিকা অর্পিতা সরকারকে। বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করে জঙ্গি কার্যকলাপ ছেড়ে দেবে বলে কথা দিয়েছিল হামিম। অর্পিতা তাতে বিশ্বাস করেছিল। নিজেও নেমে পড়েছিল জঙ্গির কাজেই। হামিমকে স্বামী হিসাবে দেখতে শুরু করেছিল অর্পিতা। এভাবেই দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছিল প্রেম। তদন্তে উঠে এসেছে অর্পিতা-হামিমের প্রেমের কাহিনী। অর্পিতা সরকারের মামার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া এলাকায়।

আরও পড়ুন:  জীবিত কালে শুনে যেতে পারেননি তিনি ‘কলঙ্কমুক্ত’, মৃত্যুর ২ বছর পর কয়লা কেলেঙ্কারি থেকে মুক্তি পেলেন মনমোহন সিং

কেমন করে আলাপ দু’জনের? এসটিএফ সূত্রে খবর, নোয়াপাড়ায় মামার বাড়িতে বেড়াতে এসেই প্রথম হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় হয়েছিল অর্পিতা সরকারের। তারপর দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দু’জনে মিলে সারা কলকাতা ঘুরে প্রেম করেছে। নিরিবিলি জায়গা খুঁজে প্রেম করা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁয় খাওয়া এবং হোটেলের রুম বুক করে সময় কাটানো, একের অপরের ঘনিষ্ঠ হওয়া এবং দু’জন দু’জনকে জানা-সবই ঘটেছিল। মোবাইল ফোনে একে অপরের ছবি রেখে আলাদা থাকতেও হয়েছিল। একজন বর্ধমান অপরজন ঝাড়খণ্ড। জঙ্গি কার্যকলাপের জন্যই এই পৃথক থাকা। তবে রোজ কথা হতো। একে অপরের খোঁজ নিত। তারপরই মিশন পুরো করতে ঝাঁপিয়ে পড়া।

তদন্তে নেমে এসটিএফ জানতে পেরেছে, হামিম মণ্ডল নিজেই তাঁর প্রেমিকা অর্পিতা সরকারকে শাহজাদ ভাট্টির সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে অর্পিতা নিজেই ভাট্টি গ্যাংয়ের সঙ্গে ভাল মতো জুড়ে যায়। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে অর্পিতা ধীরে ধীরে প্রেমিক হামিম মণ্ডলের কথায় হানিট্র্যাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। প্রেমিক বলেছে বলে কথা। হামিম এবং অর্পিতার বিরুদ্ধে ইউএপিএ আইনে মামলা দায়ের করা হবে। দু’জনের বিরুদ্ধেই বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হবে। সুতরাং প্রেম আপাতত জেলে। হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অপহরণ করার ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ পেত অর্পিতা সরকার। সমাজমাধ্যমে প্রেমের ফাঁদ পেতে প্রথমে ঘনিষ্ঠতা বাড়াত অর্পিতা। তারপর মগজ ধোলাই করে ‘টার্গেটকে’ কবজা করত সে। লাস্যময়ী যুবতীর ফাঁদে পা দিলেই খেলা শেষ। এভাবে গোপন তথ্য হাতানো অথবা জঙ্গি দলে টেনে আনার কাজ চলত। এটাই ছিল অর্পিতার কাজ। তাই হামিম-অর্পিতাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে পারেন তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন:  সারারাত মঞ্চে মমতা! ভাঙচুর-নাশকতার অভিযোগ তুলে বিজেপিকে নিশানা, উত্তপ্ত কলকাতার রাজনীতি

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment