দু’চাকার যান কিনতে সরকারি কর্মচারীদের পাশে রাজ্য সরকার, স্যালারি অ্যাডভান্স স্কিমেরও বিজ্ঞপ্তি

By Suman Debnath

November 4, 2026 7:00 PM

দু’চাকার যান কিনতে সরকারি কর্মচারীদের পাশে রাজ্য সরকার, স্যালারি অ্যাডভান্স স্কিমেরও বিজ্ঞপ্তি


মাঝে আর একটা দিন। তারপরই ধনতেরাস। ঠিক তার আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মোটরবাইক, স্কুটার অথবা ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক দু’চাকার যান কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ঋণের ঊর্ধ্বসীমা অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হল। অর্থ দপ্তর সূত্রে খবর, বাজারে যানবাহনের মূল্যবৃদ্ধিতে এই সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটাল। পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক স্কুটার বা স্কুটি কেনায় সরকারি কর্মীদের উৎসাহ দিতেই এই বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পি কে মিশ্রের স্বাক্ষর করা নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্যালারি অ্যাডভান্স স্কিম চালু করল অর্থ দপ্তর। এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই জারি করেছে অর্থদপ্তর। রাজ্য সরকারের প্রত্যেক স্থায়ী কর্মী (গ্রুপ এ, গ্রুপ বি, গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি বা সমতুল) এই সুবিধা পাবেন বলেই খবর। সরকারি কর্মচারীদের জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে এই প্রকল্প সাহায্য করবে। ট্রেজারি বা পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিস সিস্টেমের মাধ্যমে যাঁরা মাসিক বেতন পান, তাঁরাই প্রয়োজনে এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন। কিন্তু কেন এমন উদ্যোগ? চিকিৎসা ইমার্জেন্সি, পরিবারের কোনও প্রয়োজন, পড়াশোনার খরচ বা হঠাৎ কোনও কর্মীর টাকার প্রয়োজন হলে জিরো কস্ট অ্যান্ড জিরো লায়বিসিটি ভিত্তিতে এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া দ্বারা অনুমোদিত শিডিউলড কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক এবং নন-ব্যাঙ্কিং ফিন্যান্সিয়াল কোম্পানিগুলির সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে একটি সুনির্দিষ্ট এবং সুসংগঠিত বেতন অগ্রিম পরিষেবা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন:  আজ 'তেরঙ্গা যাত্রায়' মুখ্যমন্ত্রী, নবান্নে শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাতে ঋতব্রত

অন্যদিকে অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সাধারণ পেট্রল চালিত মোটরবাইক বা স্কুটার কেনার জন্য প্রথম দফায় সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে। তবে কর্মীর পাঁচ মাসের মূল বেতন অথবা গাড়ির মূল্যের মধ্যে যেটি কম হবে, সেই অঙ্কের টাকাই ঋণ হিসেবে মিলবে। দ্বিতীয়বার এমন গাড়ি কিনতে চাইলে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে। পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক যানের ক্ষেত্রে এই আর্থিক সহায়তার অঙ্ক আরও বেশি। প্রথমবার ইলেকট্রিক দু’চাকা কিনলে কর্মীরা সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। তবে তাঁদের ৬ মাসের মূল বেতন অথবা গাড়ির দামের মধ্যে যেটি কম সেই অর্থ মঞ্জুর করা হবে। দ্বিতীয় দফায় ইলেকট্রিক মোটরবাইক কিনলে সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ রাখা হয়েছে ৯০ হাজার টাকা।

এখানেই শেষ নয়, রোপা ২০১৯ অনুযায়ী, যাঁদের মূল বেতন কমপক্ষে ২৫ হাজার ৭০০ টাকা বা তার বেশি, শুধু তাঁরাই এই ঋণের আবেদন করতে পারবেন। ঋণের টাকা শোধ করার প্রক্রিয়াও সহজ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে অনুযায়ী, ঋণের আসল টাকা সর্বোচ্চ ৬০টি মাসিক কিস্তিতে বেতন থেকে কাটা যাবে। বাকি থাকা সুদের টাকা পরবর্তী সর্বোচ্চ ২০টি কিস্তিতে শোধ করতে পারবেন ঋণ নেওয়া কর্মীরা। তাছাড়া শর্ট টার্ম বা স্বল্পমেয়াদি অগ্রিম হঠাৎ কোনও প্রয়োজনে নিতে পারবেন। যে মাসে নেবেন, সেই মাসে আপনার নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা মিলবে। সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে সেটা পরিশোধ করতে হবে। আপনার বেতন যদি মাসে ২০ হাজার টাকা হয় তাহলে আপনি স্বল্পমেয়াদি অগ্রিম হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পেতে পারেন। যা পরবর্তী বেতন থেকে এককালীন কেটে নেওয়া হবে। আর মাল্টি মান্থ অ্যাডভান্সও নিতে পারবেন। এটি দীর্ঘমেয়াদী অগ্রিম। ২ মাস থেকে শুরু করে পাঁচ বছর মেয়াদে এই অগ্রিম দেওয়া হবে। বড় ধরনের পারিবারিক খরচ, চিকিৎসা খরচের জন্য এই অগ্রিম নিতে পারবেন। তবে চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হিসেব মিটিয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন:  ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে বড় উদ্যোগ রাজ্যের, প্রতিটি জেলাকে ১ লাখ অনুদান, দেড় লক্ষ জাতীয় পতাকা বরাদ্দ

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment