---Advertisement---

প্রায় ছয় বছর পর খুলল ঐতিহাসিক নাথুলা পাস, ভারত-চিন সীমান্তে ফের শুরু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য

By Suman Debnath

August 1, 2026 5:01 PM

প্রায় ছয় বছর পর খুলল ঐতিহাসিক নাথুলা পাস, ভারত-চিন সীমান্তে ফের শুরু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য

---Advertisement---


দীর্ঘ প্রায় ছয় বছরের  প্রতীক্ষার অবসান হলো। আজ অর্থাৎ ১ আগস্ট থেকে খুলে গেল ভারত ও চিনের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী নাথুলা (Nathu La) পাস। আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় শুরু হয়ে গেল সীমান্ত বাণিজ্য । ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাব এবং পরবর্তীকালে সীমান্ত উত্তেজনার কারণে ঐতিহাসিক এই সিল্ক রুটের বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে শনিবার সিকিমের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী টি. টি. ভুটিয়া নাথুলায় (Nathu La) এক জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে সীমান্ত বাণিজ্যিের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উভয় দেশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সিকিমের পূর্ব সীমান্তে ১৪,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই নাথুলা (Nathu La) পাস।  ১৯৬২ সালে ভারত-চিন যুদ্ধের ফলে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল এই পাস। পরবর্তীকালে ২০০৬ সালে  দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের জন্য পুনরায় চালু করা হয় এই পাস। এটি ভারত ও চিনের মধ্যকার তিনটি নির্ধারিত সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্রের অন্যতম একটি পথ, যা প্রতি বছর মে থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত খোলা থাকে। এতদিন ধরে এই বাণিজ্য বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনীতির উপর এক বিরাট চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।

আরও পড়ুন:  ছুটির দিনে অফিসে হাজিরা দিতে হবে, কর্মীদের নির্দেশিকা স্বাস্থ্যদপ্তরের

রাজ্যের বাণিজ্য ও শিল্প সচিব কর্মা ডি ইউতসো জানান, বাণিজ্য পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি আগেই সম্পূর্ণ করা হয়েছিল। সিকিমের প্রায় ৫০০ জন নিবন্ধিত ব্যবসায়ী সরাসরি এই সিদ্ধান্তের ফলে উপকৃত হবেন। পাশাপাশি এর ফলে স্থানীয় পরিবহন চালক, হোটেল ব্যবসায়ী এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের রুজি-রোজগার বৃদ্ধি পাবে। স্থবির হয়ে পড়া স্থানীয় অর্থনীতি এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আবার নতুন প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই রুটে উভয় দেশের মধ্যে প্রায় ৩৬টি নির্দিষ্ট পণ্যের আদান-প্রদানে অনুমোদন রয়েছে। ভারত থেকে হস্তশিল্প, কৃষি সরঞ্জাম ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি  হয়। চিন বা তিব্বত অঞ্চল থেকে পশম ও অন্যান্য় সামগ্রী আমদানি করা হয়। বর্তমান নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্যবসা চলবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারত ও চিন থেকে ৩০ জন ব্যবসায়ী অংশ নেন।

আরও পড়ুন:  ক্ষমা চেয়েও বিস্ফোরক কুণাল, আমার বিধায়ক পদ কাড়তে চাইছে, দাবি বেলেঘাটার বিধায়কের

দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাণিজ্য সংগঠনগুলো এই সীমান্ত বাণিজ্য পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপকে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল বাণিজ্যিক লাভই নয়, দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের সামাজিক সংযোগ সুদৃঢ় করতে এই রুটের পুনঃসূচনা একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment