সাপের ভয়ে বন্দি নথি, ৩১ বছরের লক-আপ মৃত্যু মামলায় ক্ষতিপূরণের আশায় ফের আদালতের দ্বারস্থ যৌনকর্মী

By Suman Debnath

August 3, 2026 1:30 PM

সাপের ভয়ে বন্দি নথি, ৩১ বছরের লক-আপ মৃত্যু মামলায় ক্ষতিপূরণের আশায় ফের আদালতের দ্বারস্থ যৌনকর্মী


একটি পুরোনো মামলার নথি। তিন দশকেরও বেশি অপেক্ষা। আর তার মাঝখানে রেকর্ড বিভাগে সাপের উপদ্রব। ১৯৯৫ সালের বহুচর্চিত ভবানীপুর থানার লক-আপ মৃত্যু মামলায় এমনই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কথা সোমবার উঠে এল কলকাতা হাইকোর্টে। তবে নথি না মিললেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ক্ষতিপূরণের দাবির পথ খোলা রাখল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।

মামলাটি ভবানীপুর থানার হেফাজতে মৃত সুভাষ দাসকে ঘিরে। ঘটনার পর আলিপুরের জেলা বিচারকের নেতৃত্বে হওয়া বিচারবিভাগীয় তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছিল, মৃত সুভাষ দাস দীর্ঘ ১০-১২ বছর যৌনকর্মী পুতুল দাসের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পুতুল দাসের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং মৃতের পরিবারের জন্য ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ হয়। সেই সঙ্গে বলা হয়েছিল, এই অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে নয়, দায়ী পুলিশকর্মীদের বেতন থেকে আদায় করতে হবে।

আরও পড়ুন:  মধ্যরাতে তুলে নিয়ে ১৬ ঘণ্টা আটক! তৃণমূল কর্মীর অভিযোগে চাপে পুলিশ, রিপোর্ট জমা রাজ্যের

সোমবার মামলাটি শুনানিতে এলে জানানো হয়, কলকাতা হাইকোর্টের রেকর্ড বিভাগে সাপের উপদ্রবের কারণে মূল মামলার নথি এখনও উদ্ধার করা যায়নি। ফলে আদালতে জমা থাকা ক্ষতিপূরণের প্রকৃত অঙ্ক এবং তার বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

ডিভিশন বেঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, পুতুল দাস চাইলে তাঁর প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ ফেরতের জন্য যথাযথ আবেদন করতে পারবেন। শুনানিতে আরও জানানো হয়, তৎকালীন নির্দেশ অনুযায়ী রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রতি ছয় মাস অন্তর ওই অর্থ নবীকরণ করে বিনিয়োগে রাখার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়া এবং নথি না মেলায় সেই অর্থের বর্তমান হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: সেন্ট্রাল লকআপে বাড়ছে নজরদারি, বন্দিদের কথোপকথন রেকর্ড করতে লালবাজারে বসছে নতুন সিসিটিভি

আরও পড়ুন:  শিলিগুড়িতে নতুন বর্ধমান রোড ফ্লাইওভার উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর

আদালতের পর্যবেক্ষণ, পুরোনো নথি উদ্ধার এবং ক্ষতিপূরণের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সামনে এলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিন দশক পরেও এই মামলায় ন্যায়বিচারের অপেক্ষা যে এখনও শেষ হয়নি, সোমবারের শুনানি যেন সেই বাস্তবতাকেই আরও একবার সামনে এনে দিল।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment