জরুরি অবস্থার সব দোষ সঞ্জয়ের নয়, ইন্দিরার উপর চাপ ছিল প্রবীণ নেতাদেরও, দাবি সোনিয়ার

By Suman Debnath

November 7, 2026 8:45 PM

জরুরি অবস্থার সব দোষ সঞ্জয়ের নয়, ইন্দিরার উপর চাপ ছিল প্রবীণ নেতাদেরও, দাবি সোনিয়ার


জরুরি অবস্থার সময় গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের দায় শুধু সঞ্জয় গান্ধীর উপর চাপানো ঠিক নয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উপর তাঁর দলের কয়েকজন প্রবীণ নেতারও প্রবল চাপ ছিল। এমনই দাবি করলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। নিজের স্মৃতিকথা প্রকাশের আগে সংবাদপত্র ‘দ্য হিন্দু’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জরুরি অবস্থার সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে চলেছে তাঁর বই ‘বিলংগিং: এ জার্নি অফ লাভ’।

সাক্ষাৎকারে সোনিয়া জানান, জরুরি অবস্থার সঙ্গে সঞ্জয় গান্ধীর নাম জড়িয়ে থাকলেও সেই সময়কার পরিস্থিতির জন্য তাঁকে একা দায়ী করা যায় না। ইন্দিরা গান্ধীর কয়েকজন প্রবীণ সহকর্মীর তরফেও প্রবল চাপ ছিল। তাঁর কথায়, ‘আমার মনে হয়, রাজীবের মতো ভিন্ন মত পোষণ করতেন, এমন মানুষ তাঁর আশপাশে খুব কমই ছিলেন।’

সোনিয়া জানান, রাজীব গান্ধী মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়ার কথা তাঁর মা ইন্দিরাকে জানাতেন। শেষ পর্যন্ত ইন্দিরা নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে শুরু করেন এবং তা সংশোধনের উদ্যোগ নেন। জরুরি অবস্থাকে গণতন্ত্রবিরোধী ও স্বৈরাচারী অধ্যায় বলা যায় কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে সোনিয়া স্বীকার করেন, ওই সময় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:  ভোটের আগে বড় ধাক্কা: বিতর্কের SIR ৫ রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা কমাল ১৩.২৪% পর্যন্ত, সব থেকে বেশি কোপ যোগীরাজ্যে

তাঁর কথায়, ‘জরুরি অবস্থার পরেই আমি জানতে পারি আসলে কত ভয়াবহ ঘটনা ঘটছিল। হ্যাঁ, গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হয়েছিল এবং হেবিয়াস কর্পাসের অধিকার স্থগিত করা হয়েছিল। তবে তা সাংবিধানিকভাবেই করা হয়েছিল।’ জরুরি অবস্থার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সোনিয়া জানান, সেই সময় দেশে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছিল। হিংসাত্মক বিক্ষোভ, সরকারি দপ্তর ও গণপরিবহণে অগ্নিসংযোগ, সংগঠিত অশান্তির পাশাপাশি আমলাতন্ত্র ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও নির্দেশ অমান্য করার আহ্বান জানানো হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ইন্দিরা গান্ধীকে যথেষ্ট চাপে পড়তে হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

তবে জরুরি অবস্থার সময়কার বাড়াবাড়ি নিয়ে পরবর্তী সময়ে ইন্দিরা নিজেই অনুতপ্ত হয়েছিলেন বলে জানান সোনিয়া। তাঁর কথায়, ভুলে গেলে চলবে না, ইন্দিরা নিজেই পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ১৯৭৭ সালের মার্চ মাসে লোকসভা নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন। জরুরি অবস্থার সময় ঘটে যাওয়া বাড়াবাড়ির জন্য প্রকাশ্যেই দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন এবং ক্ষমা চেয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:  মধ্যপ্রদেশে তুলকালাম: ব্যারিকেড ভেঙে মুখ্যমন্ত্রী আবাসের দিকে এগোচ্ছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা, সঙ্গী জেন-জি

একই সাক্ষাৎকারে গত ১২ বছরে বিজেপি সরকারের আমলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সোনিয়া। তাঁর বক্তব্যের পাল্টা কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের প্রশ্ন, ১৯৭৫ সালের কথা কি ভুলে গিয়েছেন সোনিয়া? তাঁর অভিযোগ, জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, হাজার হাজার নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: মায়ের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ, দাদু-ঠাকুমার কাছে থাকতে হাইকোর্টে ১৫ বছরের কিশোর

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ তার অবসান হয়। এই সময় সংবাদমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ, বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার এবং নাগরিকদের একাধিক অধিকার খর্ব করার ঘটনা নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment