তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে মেয়ো রোড কার দখলে? হাইকোর্টের দারস্থ কালীঘাট ও ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল

By kolamkotha.com

August 24, 2026 1:45 PM


মেয়ো রোড কার দখলে? কালীঘাটের পর ঋতব্রত শিবির। তৃণমূলের ‘দুই সভা’ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে টানাপোড়েন। প্রতিষ্ঠা দিবসে মেয়ো রোডে সভা করতে চায় ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল। পুলিশের অনুমতি না মেলায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ। অন্যদিকে, একই জায়গায় সভার অনুমতি চেয়ে আগেই আদালতে গিয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। ফলে ২৮ আগস্ট মেয়ো রোড কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে দুই শিবির।

১৯৯৮ সালে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ২৮ আগস্ট সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসের অন্যতম প্রধান কর্মসূচির কেন্দ্র হল কলকাতার মেয়ো রোড। সেই মঞ্চে বছরের পর বছর ধরে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দলের একাধিক শীর্ষ নেতা-নেত্রীকে দেখা গিয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। আর তারপর থেকে সেই চেনা ছবি কার্যত বদলে গিয়েছে।

২১ জুলাইয়ের মতোই এবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচিও কার্যত দুই শিবিরে ভাগ হওয়ার মুখে। গান্ধী মূর্তির পাদদেশে মেয়ো রোডে সভা করতে চায় ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল। পুলিশের অনুমতি না মেলায় বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি শুনতে রাজি হননি। মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:  Bankipur Bypoll Result: বাঁকিপুরে বাজিমাত পিকের, প্রেস্টিজ ফাইটে বিজেপিকে হারিয়ে জয়ী প্রশান্ত কিশোর!

অন্যদিকে, একই কর্মসূচি নিয়ে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলও আগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। গত সোমবার আইনজীবী অর্ককুমার নাগ বিচারপতি ভট্টাচার্যের এজলাসে বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাঁদের দাবি, ২৮ আগস্টের সভার অনুমতি চেয়ে ২৭ জুলাই পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরে ৩ ও ৭ আগস্ট পুলিশের কাছে জানতে চাওয়া হলেও কোনও উত্তর মেলেনি।

ফলে প্রশ্ন এখন একটাই, এক জায়গা, এক দিন, কিন্তু দাবিদার দুই তৃণমূল। ২৮ আগস্ট মেয়ো রোডের মঞ্চ কার দখলে থাকবে? সেই সিদ্ধান্তের ভার শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের উপরই। এর আগে ২১ জুলাইও দুই শিবিরের আলাদা কর্মসূচি ঘিরে প্রকাশ্যে এসেছিল তৃণমূলের বিভাজন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও মদন মিত্রদের শিবির মেয়ো রোডে সভা করেছিল। অন্যদিকে মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি হয়েছিল তারামণ্ডলের সামনে।

আরও পড়ুন:  প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে খুঁজতে একযোগে সিট, এসটিএফ এবং ফরেন্সিক

আরও পড়ুন: বিদেশ যাওয়ার আগে স্বস্তি অভিষেকের, ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলার নিষ্পত্তি করল হাইকোর্ট

এই আবহেই বিরোধী দলনেতার পদ নিয়েও ঋতব্রতকে ঘিরে আইনি টানাপড়েন চলছে। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা হবে না। ফলে আগামী দু’মাস ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা থাকবেন। সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই নজর। তার মধ্যেই ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ নিয়ে ফের আদালতে মুখোমুখি দুই যুযুধান শিবির।

No comments to show.

Leave a Comment