বিহারের বাঁকিপুর উপনির্বাচনে বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটিতে বড় ধাক্কা। সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের শূন্য হওয়া আসনে ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ের পথে জন সুরাজের প্রশান্ত কিশোর।
নজরবন্দি ব্যুরো: বিহারের (Bihar) রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাঁকিপুর (Bankipur) বিধানসভা উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের গণনা অনুযায়ী শেষ পর্যায়ের রাউন্ডগুলিতেই জন সুরাজ পার্টির (Jan Suraaj Party) প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। এদিকে দলীয় সূত্রের দাবি, শেষ পর্যন্ত তিনি ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন। ফলে বিজেপির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই আসনে ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও বড় বার্তা দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
মাত্র এক বছর আগেই, ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এই বাঁকিপুর কেন্দ্র থেকেই বিজেপির বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin) প্রায় ৬২.৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ৫২ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) নির্বাচিত হওয়ায় বিধায়ক পদ ছাড়েন। সেই কারণেই এই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
উপনির্বাচনে শুরু থেকেই প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে বিজেপির প্রার্থী নীরজ কুমার (Neeraj Kumar)-এর সরাসরি লড়াই জমে ওঠে। প্রথম কয়েক রাউন্ড থেকেই জন সুরাজ প্রার্থীর লিড তৈরি হয় এবং গণনা যত এগিয়েছে, ব্যবধানও তত বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ উপলব্ধ আপডেটে ২৮ রাউন্ড শেষে প্রশান্ত কিশোর প্রায় ১৯ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন। পরে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়, চূড়ান্ত ফলাফলে সেই ব্যবধান ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে পৌঁছেছে।
এই ফলকে শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্রের জয়-পরাজয় হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ, বাঁকিপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দলের সর্বভারতীয় সভাপতির শূন্য হওয়া আসন ধরে রাখা বিজেপির কাছে মর্যাদার প্রশ্ন ছিল। সেই কারণেই এই উপনির্বাচনকে রাজনৈতিক মহলে ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ হিসেবেই দেখা হচ্ছিল।
অন্যদিকে, জন সুরাজ পার্টির জন্য এই ফল নিঃসন্দেহে বড় রাজনৈতিক সাফল্য। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন গড়ার পর প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বে বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটিতে জয় তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিহারের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণেও এই ফল গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) তরফে আনুষ্ঠানিক Form-20 প্রকাশের পরই চূড়ান্ত ভোটের ব্যবধান এবং সরকারি ফলাফল নিশ্চিত হবে। তা সত্ত্বেও বর্তমান ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বাঁকিপুরে রাজনৈতিক ছবিতে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং বিজেপির কাছে এই হার নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা।
Leave a Comment