আগরতলা, ১৫ অক্টোবর: নিয়োগপত্রের দাবিতে ফের আন্দোলনে নামলেন টেট-১ উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধর্নায় বসে থাকেন তাঁরা। দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর দিনেও বাড়ি ফিরে না গিয়ে রাস্তায় বসেই আন্দোলন চালিয়ে যান চাকরিপ্রার্থীরা। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এবং নিয়োগের বিষয়ে লিখিত আশ্বাসের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। এদিকে, আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেস।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে তাঁরা টেট-১ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফল প্রকাশের পর প্রয়োজনীয় যাচাইপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি চাকরির আবেদনপত্রও পূরণ করেছেন। কিন্তু সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও এখনও নিয়োগপত্র হাতে পাননি তাঁরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে বলে দাবি চাকরিপ্রার্থীদের।
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, যে মামলাকে কেন্দ্র করে নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে রয়েছে, তার সঙ্গে তাঁদের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। অন্যের মামলার কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও নিয়োগের বিষয়ে নির্দিষ্ট আশ্বাস না মেলায় বাধ্য হয়ে আন্দোলনের পথে নামতে হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
এক আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থী বলেন, “আমরা ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। অনেক দূরদূরান্ত থেকে এসেছি। রাত সাড়ে নটা বেজে গেলেও এখনও রাস্তায় বসে রয়েছি। আমরা পড়াশোনা করেছি চাকরি পাওয়ার আশায়, রাস্তায় বসে আন্দোলন করার জন্য নয়। কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের বাধ্য করেছে।”
আন্দোলনকারীদের দাবি, বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁদের কথা হলেও নিয়োগের বিষয়ে কোনও লিখিত আশ্বাস দেওয়া হয়নি। শুধু মৌখিক বক্তব্যে তাঁরা আর আশ্বস্ত হতে পারছেন না। দুর্গাপুজোর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা হবে, এমন লিখিত প্রতিশ্রুতি চান তাঁরা।
চাকরিপ্রার্থীদের আরও অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁরা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা না করেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিক বাড়ি চলে গিয়েছেন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। সারাদিন রাস্তায় বসে অপেক্ষা করেও তাঁদের সমস্যার সমাধান নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
দুর্গাপুজোর আনন্দের সময় যখন অধিকাংশ মানুষ পরিবারের সঙ্গে উৎসবে মেতে রয়েছেন, তখন নিজেদের ভবিষ্যতের দাবিতে রাস্তায় বসে আন্দোলন করতে হচ্ছে—এই পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন চাকরিপ্রার্থীরা।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, নিয়োগের বিষয়ে স্পষ্ট ও লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের কোনও পরিকল্পনা নেই। মুখ্যমন্ত্রী নিজে এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিক, এমনটাই দাবি তাঁদের।
চাকরিপ্রার্থীদের প্রশ্ন, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া থেকে শুরু করে ফল প্রকাশ, যাচাইপ্রক্রিয়া এবং আবেদনপত্র পূরণ—সমস্ত ধাপ অতিক্রম করার পরও কেন তাঁদের নিয়োগের জন্য অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করতে হবে? দ্রুত নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে চাকরির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনরত টেট-১ চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সংগঠনের সভাপতি নীলকমল সাহার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আন্দোলনস্থলে গিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এবং তাঁদের দাবির প্রতি সমর্থন জানায়।
নীলকমল সাহার অভিযোগ, ২০২৪ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও চাকরিপ্রার্থীরা এখনও নিয়োগপত্র পাননি। আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগ আটকে থাকায় তাঁদের অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। দুর্গাপুজোর মতো উৎসবের সময় চাকরিপ্রার্থীদের রাস্তায় বসে আন্দোলন করতে হওয়াকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যুব কংগ্রেস সভাপতি জানান, চাকরিপ্রার্থীদের দাবির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তাঁদের পাশে থাকবে সংগঠন। প্রয়োজনে সাহায্য করার আশ্বাসও দেন তিনি। পাশাপাশি, দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যুব কংগ্রেস।
সব মিলিয়ে, টেট-১ উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে রাজ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, চাকরিপ্রার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কত দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়।
Leave a Comment