বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে কার্যাক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ভুয়া অভিযোগ তুলে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা ও ঘেরাও পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামলায় যুব ইউনিয়নের অন্তত দুজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
সোমবার বিকেলে সুনামগঞ্জে নারী বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন সংস্কৃতিকর্মীরা। সেখান থেকে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটক করে পুলিশ। রাত ৯টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে নেতাকর্মীরা পল্টনে এক আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা জানান, এই মিছিলকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় উত্তেজনার সূত্রপাত। পল্টন থানা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা হঠাৎ করে মিছিলটিকে বাধা দেয় এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বা সংশ্লিষ্টতার ভুয়া অভিযোগ এনে ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে নেতাকর্মীরা পল্টনের ‘মুক্তি ভবনে’ (সিপিবি কার্যালয়) আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা ভবনের কার্যালয়ে প্রবেশ করে এবং সেখানে ঘেরাও পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
মুক্তি ভবনের ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় সিপিবি কার্যালয় এবং অষ্টম তলায় ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। হামলাকারীরা কার্যালয়ের ভবনে প্রবেশ করে নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয় এবং কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করে।
হামলায় আহত যুব ইউনিয়নের দুই নেতাকর্মীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার বদলে উল্টো পুলিশি হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির দায়িত্বশীল নেতারা। রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত সিপিবির শীর্ষ নেতা, ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং তাদের সহযোদ্ধারা কার্যালয়ের ভেতর অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
মাহীর শাহরিয়ার (কেন্দ্রীয় সভাপতি, ছাত্র ইউনিয়ন বলেন,”আমাদের কার্যালয়ে সরাসরি হামলা করা হয়েছে। হামলাকারীরা মূলত স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী। তারা আমাদের অযৌক্তিকভাবে ‘আওয়ামী লীগ’ প্রতিপন্ন করতে চাইছে এবং অপপ্রচার চালিয়ে এই মব-অ্যাটাক চালিয়েছে। আমরা ও আমাদের বন্ধুপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের ভেতর অবরুদ্ধ ছিলাম।”
আব্দুল্লাহ আল কাফী সাধারণ সম্পাদক, সিপিবি বলেন, “একটি উগ্র ‘মব’ এসে আমাদের পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও নেতাকর্মীদের রক্ষায় ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছাই। স্বাধীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম হামলার বিষয়টি নাকচ করে দেন। তিনি জানান, দীপক শীলকে ছেড়ে দেওয়ার পর মালা পরিয়ে আনন্দ মিছিল বের করাকে কেন্দ্র করে কার্যালয়ের সামনে কিছুটা উত্তেজনা ও হট্টগোল তৈরি হয়েছিল। কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি এবং পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে হামলার দায় অস্বীকার করে জানানো হয়, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত তর্কাতর্কি থেকে সৃষ্ট উত্তেজনার ফল এবং বিএনপি কোনো ধরনের সহিংসতা সমর্থন করে না।
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই হামলার প্রতিবাদে রাজপথের বামপন্থী ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে হামলার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
Leave a Comment