আবহাওয়াপশ্চিমবঙ্গভারতচাকরিরাশিফলআইপিএলআধ্যাত্মিকটাকা পয়সাস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলমিউচুয়াল ফান্ডব্যবসাঅন্যান্যশেয়ার বাজারটিভি সিরিয়াল

অবহেলায় ধুঁকছে বড়মুড়া ইকোপার্ক, প্রশ্নের মুখে পর্যটন দপ্তরের সদিচ্ছা!

By Mrinmoy Roy

Published on: January 16, 2026

Follow Us

---Advertisement---

তেলিয়ামুড়া, মৃন্ময় রায়, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার :
এক সময় রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে বড়মুড়া ইকোপার্ক ছিল এক সম্ভাবনাময় নাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জাতীয় সড়ক সংলগ্ন অবস্থান ও পর্যটকদের জন্য উপযোগী পরিবেশ—সব মিলিয়ে এই পার্ককে ঘিরে ছিল নানান স্বপ্ন ও প্রত্যাশা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্ন যেন ক্রমেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে। নাম বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি ভাগ্য।
রাজ্য সরকারের পর্যটন দপ্তর প্রতিবছরই বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নের দাবি তুলে ধরে। অথচ বাস্তব চিত্র যেন সম্পূর্ণ উল্টো। তেলিয়ামুড়ার বড়মুড়া বা হাতাই কতর ইকোপার্কে পা রাখলেই চোখে পড়ে অব্যবস্থা ও অবহেলার স্পষ্ট ছাপ। জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থান করেও যে কোনও পর্যটন কেন্দ্র এমনভাবে আকর্ষণ হারাতে পারে, তা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের।
এই অভিযোগ শুধু সাধারণ মানুষের নয়। পার্কের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও একযোগে স্বীকার করছেন—বড়মুড়া ইকোপার্ক এখন আর আগের মতো পর্যটকদের টানতে পারছে না। পার্ক ও পিকনিক পয়েন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রণব দেবনাথ জানান, ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বলছে পিকনিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সুরে পার্কের কর্মী জয়চন্দ্র রূপিণীর বক্তব্য—কারণ স্পষ্ট না হলেও বাস্তব সত্য হলো মানুষ আর আসছেন না।
পার্কের সামনে অবস্থিত ক্যান্টিন ও দোকানের পরিচালক দীপক দাস আরও একধাপ এগিয়ে পর্যটন দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, দপ্তরের খামখেয়ালিপনা ও নজরদারির অভাবেই আজ বড়মুড়া ইকোপার্ক কার্যত ছন্নছাড়া অবস্থায় পৌঁছেছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পরিকাঠামো উন্নয়ন কিংবা আধুনিক সুবিধার অভাবে এই পার্ক ক্রমশ তার গুরুত্ব হারাচ্ছে।
যদিও বিগত বছর থেকে বোটিং পরিষেবা চালু রয়েছে, তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যে আধুনিকীকরণ ও পরিবর্ধন প্রয়োজন, তা এখনও অধরাই থেকে গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসনের কর্তারা কবে এই বাস্তব চিত্র অনুধাবন করবেন?
এদিকে পার্ক সংলগ্ন বিট অফিসার নির্মল দাসের ভূমিকা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের কার্যকারিতা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠে আসছে পর্যটন দপ্তরের আন্তরিকতা নিয়ে। যে দপ্তর রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়ন নিয়ে সর্বদা বড় বড় দাবি করে, সেই দপ্তরের অধীনেই যদি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইকোপার্ক এভাবে ধুঁকতে থাকে, তবে সেই দাবির বাস্তবতা কোথায় দাঁড়ায়? অনেকেই মনে করছেন, যেখানে রাজ্যের নিজস্ব পর্যটন কেন্দ্রগুলো অবহেলায় জর্জরিত, সেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে প্রমোফেস্টের মতো অনুষ্ঠান আয়োজন কতটা যুক্তিযুক্ত—সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াও এখন জরুরি।
এই অবস্থায় বড়মুড়া ইকোপার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠছে সর্বস্তর থেকে। নচেৎ রাজ্যের পর্যটন মানচিত্র থেকে আরও একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

Mrinmoy Roy

Journalist

Leave a Comment