আবহাওয়াপশ্চিমবঙ্গভারতচাকরিরাশিফলআইপিএলআধ্যাত্মিকটাকা পয়সাস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলমিউচুয়াল ফান্ডব্যবসাঅন্যান্যশেয়ার বাজারটিভি সিরিয়াল

গরু চোরদের বাঁচাতে মরিয়া তোফাজ্জল হোসেন? বক্সনগর গরু চুরি কান্ডে চাঞ্চল্য!

By Suman Debnath

Published on: January 15, 2026

Follow Us

---Advertisement---

চিনির পড়ে গরু চুরি কান্ডে কেন আসলো বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের নাম? তবে কি গরু চোরকে বাঁচাতেই পুলিশকে বোতল বন্ধি করেছেন বক্সনগরের বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন? গরু চুরি কান্ডে গোটা চেইনের মাথা কে..?

এই প্রশ্ন গুলোর গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে চারদিকে। গত এক মাসের মধ্যে কলমচৌড়া থানা এলাকা থেকে ১৭টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় এলাকা পেশাদারী চোরেরা।রহিমপুর এবং কলসীমিড়া নগর সীমান্ত এলাকা দিয়ে চুরির গরুগুলি পাচার করে দেওয়া হয় বাংলাদেশে। চোরেরা সীমান্তের পাচারকারীদের কে দিয়ে বাংলাদেশে এই গরুগুলি পাচার করে। প্রতি গরু বাংলাদেশে পাচার করার বিনিময়ে চোরেরা পাচারকারীদেরকে ২০০০ টাকা দিতে হয়।এই গরুগুলি নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের চোরেরা ওত পেতে থাকে সীমান্তের ওপাশে। বক্সনগর এলাকার চোরদের সাথে বাংলাদেশের চোরদের সব সময় যোগাযোগ থাকে। সুযোগ পেলেই গৃহস্থের সর্বনাশ করে দেয় এই চোরের দল। সাম্প্রতিক চুরি হওয়া ১৭ টি গরুর মালিক ছিল নয়নজলা পঞ্চায়েতের দুপুরিয়াবান গ্রামের রশিদ মিয়া, আক্কেল আলী, যশো মিয়া, নুরজাহান বেগম, হুমায়ুন কবির, মুতি মিয়া, প্যারা মিয়া এবং দেলোয়ারা বেগম। মানিক্যনগর গ্রামের বাসিন্দা উত্তম দাস। আশাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা গৌড় গোবিন্দ দাস এবং আবু তাহের। এতগুলি বাড়িতে গরু চুরি হওয়ার পরও পুলিশ কোন ভূমিকা দেখাতে পারেনি। কারণ স্থানীয় বিধায়ক পুলিশকে বোতল বন্দি করে রেখেছে বলে অভিযোগ। অথচ চুরি হওয়া গরুর সকল মালিকেরা চুরির ব্যাপারে কলমচৌড়া থানায় লিখিতভাবে জানিয়েছিল। গত ২রা জানুয়ারি গোবিন্দ দাস এবং উত্তম দাসের গরু চুরি করে চোরেরা।

বাংলাদেশ পাচার করে দেওয়ার জন্য কলসিমুড়া সীমান্তের পাচারকারী সোহাগ মিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।সোহাগ মিয়া এলাকার আরেক পাচারকারী স্বপ্না বেগমের সহযোগিতায় দুটি গরু পাচার করে দেয় বাংলাদেশে। আরেকটি গরু নিয়ে স্বপ্না বেগম যখন সীমান্তের দিকে যাচ্ছিল এই সময় এলাকার সচেতন যুবক আলাউদ্দিন মিয়ার সন্দেহ হয়।স্বপ্নাকে আটক করে গ্রামের মানুষকে ডাকে সে।স্বপ্নাকে চাপ দিতেই সোহাগের কথা বলে দেয় সে। ঘটনাস্থলে বিএসএফ জোয়ান এসে গরু আটক করে এবং কলমচৌড়া থানায় খবর দেয়। পুলিশ গরুটি উদ্ধার করে মালিক উত্তম দাসের হাতে তুলে দেয়। স্বপ্নার মাধ্যমে জানতে পারে কাঁটাতারের বেড়ার ১৮৫ নাম্বার গেটের পাশ দিয়ে গরুগুলি পাচার করেছে বাংলাদেশ। যে জায়গায় সীমান্তের পিলার নাম্বার ছিল ১(এস)।গরুগুলি বাংলাদেশ কুমিল্লা জেলার বুড়চিং থানার পাঁচুড়া গ্রামের শিপন মিয়া নিয়ে যায়। তথ্য অনুযায়ী দুদেশের প্রশাসন তৎপর হয়ে গরুগুলো উদ্ধার করে। ৫ই জানুয়ার সীমান্তের পিলার নং ৫(এস)পাশে দু’দেশের প্রশাসন মিলে ফ্লেগ মিটিং করে এবং গরুগুলি নিয়ে আসে।

পরবর্তী সময়ে কলমচৌড়া থানার পুলিশ গরুর মালিক উত্তম দাস এবং গৌর গোবিন্দ দাস কে গরুগুলি দিয়ে দেয়। এই সময় বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন গরু উদ্ধারের ব্যাপারে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ধাপ্পাবাজি ও চাঁপাবাজি করতে দেখা যায়। এটাও প্রকৃত চোরদেরকে লোকচক্ষু থেকে আড়াল করার জন্য বিধায়কের অপকৌশল বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছে। বিধায়কের নির্দেশ অনুসারে রাতে গরু পাচার করে দেওয়া লাইনম্যান সোহাগ মিয়াকে বাড়ি থেকে তুলে আনে পুলিশ।সোহাগ প্রকৃত চোরদের নাম পুলিশের কাছে বলে দিলে বিধায়কের আরো মাথা খারাপ হয়ে যায়। কারণ প্রকৃত চোর হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা সকলেই বিধায়কের আত্মীয়-স্বজন দেখা যায়।যে ব্যাপারে সোহাগের স্ত্রী থানার গেইটের সামনে চিৎকার করে ওদের নাম বলতে দেখা যায়। সোহাগের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার জানায় চোর শাকিল হোসেনএবং তার সহযোগীরা গরুগুলি তার স্বামীর কাছে দিয়ে গেছে । শাকিলের সাথে যারা এই চুরি করে থাকে তারা হলো সুমন মিয়া, রাসেল মিয়া, পলাশ মিঞা এবং রিয়াজ উদ্দিন। যারা প্রত্যেকেই বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের ভাই ভাতিজা এবং ভাগিনা।

ফলে বিধায়ক পুলিশকে নির্দেশ দেয় তড়িঘড়ি করে সোহাগকে আদালতে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য। এক মাসে ১৭ টি গরু চুরি হয়ে যাওয়ার পরও সোহাগকে রিমান্ডে আনার প্রয়োজন মনে করেনি পুলিশ। অভিজ্ঞ মহল মনে করছে বিধায়কের হস্তক্ষেপের কারণে পুলিশ সোহাগ রিমান্ডে আনতে পারেনি। ফলে আসল গরু চুরদের নাম আড়াল হতে যাচ্ছে। যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে বক্সনগর এলাকায়। কয়েক মাস পূর্বে স্ব-দলের মন্ডল কমিটির সহ-সভাপতি বরুণ লস্করের নেতৃত্বে দলীয় কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে স্লোগান তুলেছিল বিধায়ক গরু চোর। তাহলে কি এই ঘটনা প্রমাণ দিচ্ছে বিধায়ক গরু চোরদেরকে লালন পালন করছে।

Suman Debnath

Journalist

Leave a Comment