বাইখোড়া, ২৫ জুন: দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বাইখোড়া থানার অন্তর্গত দেবদারু ফাঁড়ি থানা এলাকায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক হওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন পুরুষ এবং একজন নারী রয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তাদের পরিচয়, ভারতে প্রবেশের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং কীভাবে তারা সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর দেবদারু ফাঁড়ি ও বাইখোড়া থানার পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। সন্দেহভাজনদের সন্ধানে একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় দুই ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের সময় তাদের আটক করা হয় এবং থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তারা বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়া ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে আসার সম্ভাব্য রুট, কারও সহযোগিতা ছিল কি না এবং এই ঘটনার সঙ্গে কোনো মানবপাচার বা আন্তঃসীমান্ত চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ রোধে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় রেখে টহল ও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে গোয়েন্দা নজরদারিও আরও জোরদার করা হবে।
আইন অনুযায়ী, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে তাদের আদালতে পেশ করা হতে পারে। পাশাপাশি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকেও জানানো হতে পারে, যাতে প্রয়োজনীয় যাচাই ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, পাচার এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ রোধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। পুলিশের মতে, সাধারণ মানুষের সহযোগিতা এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই এ ধরনের অভিযানে সাফল্য মিলছে। তাই সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানোর জন্য সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, আটক দুই বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয়, তাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং সীমান্ত অতিক্রমের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয়। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য উঠে এলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

Leave a Comment