---Advertisement---

জগন্নাথের রথে মিলনের মহোৎসব, সম্প্রীতির বার্তা রাজ্যজুড়ে

By Suman Debnath

July 17, 2026 12:10 AM

জগন্নাথের রথে মিলনের মহোৎসব, সম্প্রীতির বার্তা রাজ্যজুড়ে

---Advertisement---


আগরতলা, ১৬ জুলাই : রথযাত্রা জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মিলন, সম্প্রীতি ও সাম্যের এক অনন্য উৎসব।  এই উৎসবের মূল বার্তাই হলো সর্বজনীনতা এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ।  তাই রথের দড়ি টানার সময় সমাজের কোনও ভেদাভেদ বা বিভাজনের স্থান থাকে না।  বৃহস্পতিবার আগরতলায় পূর্বাশা প্রাঙ্গণে ইসকন আয়োজিত রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধন করে একথা বলেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু।  অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

রাজ্যপাল প্রভু শ্রী জগন্নাথদেবের কাছে ত্রিপুরাবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী সকলের পক্ষে মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করে ভগবানের দর্শন করা সম্ভব হয় না।  সেই কারণেই প্রভু জগন্নাথদেব নিজেই রথে আরোহণ করে ভক্তদের মাঝে উপস্থিত হন, যাতে ধনী-দরিদ্র, জাত-পাত ও সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ তাঁর দর্শনের সুযোগ লাভ করতে পারেন।

তিনি বলেন, এই ঐতিহ্য আমাদের শিক্ষা দেয় যে ঈশ্বরের কাছে সকল মানুষ সমান এবং মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতিই সমাজের প্রকৃত শক্তি।  রথযাত্রার সময় সকলের মনোযোগ ও ভক্তি প্রভু জগন্নাথদেবের প্রতি নিবদ্ধ থাকে, যা এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে।  এই উৎসব সামাজিক ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।

আরও পড়ুন:  তেলিয়ামুড়ায় তিনটি জুয়ার আসরে হানা, নগদ অর্থসহ তিন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার!

রাজ্যপাল আরও বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।  এটি ভারতীয় সংস্কৃতির সার্বজনীন আবেদন এবং মানবকল্যাণমূলক দর্শনেরই প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা বলেন, রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালোবাসা ও ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক।  এই উৎসব আমাদের জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দেয়।

তিনি বলেন, রাজ্যের বর্তমান সরকার সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের উৎসবকে সমান গুরুত্ব ও সম্মানের সঙ্গে সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।  কারণ এই ধরনের উৎসব সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যেও এই উৎসব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।  মুখ্যমন্ত্রী ভগবান শ্রী জগন্নাথদেবের কাছে ত্রিপুরা রাজ্যসহ সমগ্র দেশ এবং মানবজাতির উন্নতি, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, রথযাত্রা মানুষের আধ্যাত্মিক চেতনাকে জাগ্রত করার পাশাপাশি মানুষে মানুষে ভালোবাসা, সেবাধর্ম ও মানবিক মূল্যবোধের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে।  তিনি বলেন, ইসকন দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবসেবা, যুবসমাজের নৈতিক বিকাশ এবং আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।  এজন্য তিনি সংগঠনের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

আরও পড়ুন:  হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে নড়েচড়ে বসলো দিল্লি!

অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, বিশিষ্ট সমাজসেবী পাপিয়া দত্ত এবং টিআইডিসি-র চেয়ারম্যান নবাদল বণিক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আগরতলা ইসকনের সহ-সভাপতি শ্রীধাম গোবিন্দ দাস প্রভু।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল এবং অন্যান্য অতিথিরা রথে অধিষ্ঠিত শ্রী জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার পূজার্চনা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে রথযাত্রার সূচনা করেন।

পূর্বাশা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবকে ঘিরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।  ভক্তিমূলক সঙ্গীত, কীর্তন এবং ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।  রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অসংখ্য ভক্ত ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে উৎসব পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment