মেলাঘরে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার উদ্বোধন, ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী
মেলাঘর, ১৫ জুলাই | নিজস্ব প্রতিনিধি: রথযাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সব ধর্মের মানুষের মিলনমেলা এবং সম্প্রীতির অন্যতম প্রতীক। এই উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। বুধবার মেলাঘরের ঐতিহ্যবাহী ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধন করে এমনই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা।
সিপাহীজলা জেলা প্রশাসন, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং মেলাঘর পুরপরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রথযাত্রা উৎসবের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান যেমন হয়, তেমনি কৃষ্টি ও সংস্কৃতিরও এক সুন্দর মেলবন্ধন গড়ে ওঠে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় রাজ্য সরকারও উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের সরকার রাজ্যের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বর্তমান রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটন স্থানগুলির উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন বলেন, মেলাঘরের রথ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি রাজ্যের ইতিহাস, সংস্কৃতি, আবেগ এবং সামাজিক ঐক্যের প্রতীক। বহু বছর ধরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ এই রথযাত্রায় অংশ নিয়ে সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিপাহীজলা জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত এবং সোনামুড়া মহকুমার মহকুমা শাসক রাজু দেব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক বিন্দু দেবনাথ, সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক ডা. সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল, জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা, সমাজসেবী প্রসেনজিৎ ঘোষ, শুভ্রজিৎ দাসসহ প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থী।
৯ দিনব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসবকে ঘিরে মেলাঘরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে। ফলে উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
Leave a Comment