,

সোনামুড়া ও কৃষ্ণপুরে দুর্গোৎসব ঘিরে হিন্দু-মুসলিমের মিলনমেলা, সম্প্রীতির নজির ২১ বছর ধরে

By Suman Debnath

October 18, 2026 10:45 AM

সোনামুড়া ও কৃষ্ণপুরে দুর্গোৎসব ঘিরে হিন্দু-মুসলিমের মিলনমেলা, সম্প্রীতির নজির ২১ বছর ধরে

সোনামুড়া, ১৮ অক্টোবর: ধর্ম আলাদা, কিন্তু ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলিমের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়ে উঠেছে সোনামুড়া মহকুমার সীমান্তবর্তী কুলুবাড়ী এবং তেলিয়ামুড়া মহকুমার কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দক্ষিণ কৃষ্ণপুরের বাইগড়িয়া এলাকায়।

দুই সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে আয়োজিত হয়ে আসছে শারদীয়া দুর্গোৎসব। ধর্মীয় উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে এই পুজো আজ এলাকার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

কুলুবাড়ীতে ২১ বছর ধরে একসঙ্গে দুর্গাপুজোর আয়োজন

সোনামুড়া মহকুমার সীমান্তবর্তী কুলুবাড়ী এলাকায় দীর্ঘ ২১ বছর ধরে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে দুর্গাপুজোর আয়োজন করে আসছেন। মহাসপ্তমী উপলক্ষে পুজোর আনন্দে সামিল হয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মণ্ডপ সজ্জা থেকে শুরু করে চাঁদা সংগ্রহ এবং পুজোর বিভিন্ন কাজে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। দুর্গাপুজোর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়ান।

আরও পড়ুন:  বড়মুড়ায় জাতীয় সড়ক অবরোধে প্রাক্তন আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা, ব্যাপক যানজট!

এলাকার বাসিন্দা নুর আলম জানান, গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পরিবার রয়েছে। অধিকাংশ পরিবার মুসলিম সম্প্রদায়ের হলেও দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ নেই। হিন্দুদের পুজোয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ আনন্দে সামিল হন। একইভাবে ঈদের সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও আনন্দ ভাগ করে নেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তাঁদের একসূত্রে বেঁধে রেখেছে।

বাইগড়িয়ার দুর্গোৎসবেও সম্প্রীতির বার্তা

অন্যদিকে, দক্ষিণ কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাইগড়িয়া এলাকাতেও দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিমের সম্মিলিত উদ্যোগে শারদীয়া দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তেলিয়ামুড়া মহকুমার কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এই জনপদে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশে পুজোর আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন:  ইন্ডিগো ফ্লাইট বাতিলের জের: দেশজুড়ে চরম ভোগান্তি, আগরতলাতেও বিপর্যস্ত যাত্রী পরিষেবা!

শনিবার, দুর্গাপুজোর সপ্তমীর সন্ধ্যায় বাইগড়িয়ার এই সম্প্রীতির পুজো পরিদর্শনে যান মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। পুজোমণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি এলাকার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বজায় থাকা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের পরিবেশ প্রত্যক্ষ করেন তিনি।

স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত এই দুর্গোৎসব সামাজিক ঐক্য ও সহাবস্থানের এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

ধর্মের বিভেদ নয়, মানুষের মিলনই উৎসবের মূল বার্তা

কুলুবাড়ী থেকে বাইগড়িয়া—দুই এলাকার দুর্গোৎসবই প্রমাণ করে, উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে ধর্মীয় পরিচয় কোনও বাধা নয়। পারস্পরিক সহযোগিতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে সামাজিক ঐক্য।

২১ বছরের ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে কুলুবাড়ীর দুর্গোৎসব এবং বাইগড়িয়ার সম্প্রীতির পুজো আগামী দিনেও একইভাবে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখুক, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকার বাসিন্দাদের।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment