তেলিয়ামুড়া, মৃন্ময় রায়, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার : ব্যস্ততার যুগে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে পৌষ সংক্রান্তির চিরাচরিত পিঠে-পুলি তৈরির সেই ঘরোয়া আসর। এক সময় সংক্রান্তির আগের দিন মানেই ছিল গ্রাম থেকে শহর—সর্বত্র পিঠে-পুলি তৈরির ধুম। মাটির উনুনে জ্বাল দেওয়া আগুন, চালের গুঁড়োর গন্ধ, নারকেল-গুড়ের মিষ্টি সুবাসে মুখরিত থাকত প্রতিটি বাড়ি। মা-ঠাকুমাদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি পিঠে-পুলির স্বাদে মিশে থাকত আবেগ আর ঐতিহ্য।
কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই দৃশ্য আজ অনেকটাই অতীত। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা কিংবা অলসতার কারণে এখন অনেকেই দোকানের রেডিমেড পিঠে-পুলিতেই সন্তুষ্ট থাকতে চান। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা সেই ঐতিহ্যবাহী রান্নার মুহূর্তগুলি।
তবুও আশার আলো এখনও নিভে যায়নি। গ্রামাঞ্চলের কিছু অংশে নবপ্রজন্মের হাত ধরেই আজও বেঁচে রয়েছে সেই চিরাচরিত পিঠে-পুলি তৈরির প্রথা। তেমনই এক অনন্য চিত্র ধরা পড়ল আমাদের ক্যামেরায় তেলিয়ামুড়া মহকুমার দক্ষিণ পুলিনপুর এলাকা থেকে।
এই এলাকার যুবতী পূজা দাস আজ ব্যতিক্রমী উদাহরণ। আধুনিকতার স্রোতে গা ভাসিয়ে না দিয়ে তিনি তাঁর মা ও ঠাকুমার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাটির উনুনে পিঠে-পুলি তৈরিতে ব্যস্ত। ভাপা পিঠে, পুলি, চিতই—নানান ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠে তৈরির মধ্য দিয়েই তিনি ধরে রাখছেন হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে।
পূজা দাস জানান, “পিঠে-পুলি শুধু খাবার নয়, এটা আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের শিকড়। সংক্রান্তির দিনে নিজেদের হাতে তৈরি পিঠে-পুলি দেবতার কাছে নিবেদন করার আনন্দটাই আলাদা।”
সংক্রান্তির দিনে সুস্বাদু পিঠে-পুলির স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি নিজেদের দেবতার নিকট নিজ হাতে তৈরি পিঠে-পুলি নিবেদন—এই ভাবনাই আজও প্রাচীন রীতিনীতি আঁকড়ে ধরে রেখেছে পূজার পরিবারকে।
পূজা দাসের মতো সচেতন নবপ্রজন্মের হাত ধরেই হয়তো আবার ফিরবে সেই হারিয়ে যাওয়া পৌষ সংক্রান্তির চিরচেনা পিঠে-পুলির আসর—ফিরবে মাটির উনুনের উষ্ণতা, ফিরবে শিকড়ে ফেরার গল্প।
আধুনিকতার ভিড়ে হারাতে বসেছে পৌষ সংক্রান্তির পিঠে-পুলির আসর, তবু প্রথা আঁকড়ে ধরে রেখেছেন একাংশ নবপ্রজন্ম!
By Mrinmoy Roy
Published on: January 13, 2026
Follow Us

---Advertisement---

Journalist







Leave a Comment