---Advertisement---

স্বচ্ছতা রক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী!

By Suman Debnath

June 22, 2026 11:09 PM

স্বচ্ছতা রক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী!

---Advertisement---

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ জুন: রাজ্যের সর্বত্র পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। রবিবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে “কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন-২০২৬” বিষয়ক রাজ্যভিত্তিক কর্মশালার উদ্বোধন করে তিনি এই আহ্বান জানান।

নগর উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় আগরতলা পুরনিগম, রাজ্যের ২০টি নগর পঞ্চায়েত ও পুর পরিষদের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আধিকারিক, ক্লাব ও সমাজসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্বচ্ছতা’ অ্যাপ-এর সূচনা করেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন-২০২৬ সম্পর্কিত একটি তথ্যবহুল লিফলেট প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধুমাত্র একটি কর্মসূচি নয়, বরং এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসে পরিণত হওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, শহর ও নগর এলাকায় নালায় আবর্জনা ফেলার প্রবণতা এখনও উদ্বেগজনক। এর ফলে নালাগুলি অপরিষ্কার হয়ে পড়ে এবং বৃষ্টির সময় জল নিষ্কাশনে সমস্যা সৃষ্টি হয়, যা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন:  শ্রীভূমির উন্নয়নে গতি আনতে তিন ঘণ্টার ম্যারাথন রিভিউ বৈঠক কৃষ্ণেন্দু পালের

তিনি বলেন, “শুধুমাত্র প্রশাসনের পক্ষে সর্বত্র পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব নয়। জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা ছাড়া এই লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন। প্রত্যেক নাগরিককে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নিজ নিজ এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এগিয়ে আসতে হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে শুরু হওয়া স্বচ্ছ ভারত অভিযান-এর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দেশকে পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ রাখতে এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি জানান, সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্বচ্ছ ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং জনগণকে সচেতন করতে হবে।

তিনি আরও জানান, আগরতলা পুরনিগমসহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও নগর এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষায়িত যানবাহন সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টির জল দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। তিনি বলেন, স্বচ্ছ ত্রিপুরা গড়ার কাজকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে এবং এই কাজে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, পুরনিগম এলাকায় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প ইতিমধ্যেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  জেলাশাসকের নির্দেশিকা অমান্যকরে চলছে শান্তির বাজার আর এম পেট্রোলপাম্প !

নগর উন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে নতুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন-২০২৬-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ

অনুষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কর্মশালার শেষে নগর উন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা ড. তমাল মজুমদার ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন।

রাজ্যের নগর এলাকাগুলিকে আরও পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে এই কর্মশালাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের সচেতন অংশগ্রহণই স্বচ্ছ ত্রিপুরা গড়ার মূল চাবিকাঠি বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত বক্তারা।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment