দুর্গম গ্রামে মোবাইল টাওয়ার ও প্রান্তিকদের অধিকার নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সঙ্গে প্রতিমা ভৌমিকের বৈঠক!

By Suman Debnath

October 1, 2026 10:09 PM

দুর্গম গ্রামে মোবাইল টাওয়ার ও প্রান্তিকদের অধিকার নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সঙ্গে প্রতিমা ভৌমিকের বৈঠক!

রাজধানীর উচ্চ ক্ষমতার গণ্ডি পেরিয়ে যার মন পড়ে থাকে ত্রিপুরার লাল মাটির মেঠো পথে, তিনি আর কেউ নন—রাজ্যের মানুষের প্রিয় ‘দিদি’ প্রতিমা ভৌমিক। মন্ত্রীত্ব কিংবা ক্ষমতার প্রশাসনিক তকমা না থাকলেও, ত্রিপুরার সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ ও নাড়ির টান যে কতটা গভীর, তা ফের একবার দেখল দেশ। সীমান্ত আর পাহাড়ের কান্নাকে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের দরবারে পৌঁছে দিতে তিনি ছুটে গেছেন কেন্দ্রীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন ও যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম. সিন্ধিয়ার টেবিলে।

বুধবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া ছিল না; ছিল কেবল ত্রিপুরার ভূমিপুত্র কৃষক এবং দুর্গম জনজাতিদের জীবনমান বদলে দেওয়ার দুটি ঐতিহাসিক স্মারকলিপি। সিপাহীজলা জেলার কাঁঠালিয়া ব্লকের থলিবাড়ি ও বাঁশপুকুর এবং পশ্চিম ত্রিপুরার ডি.এম. কলোনি ও আমগাছিয়া এলাকার মেহনতি কৃষকদের কষ্ট দীর্ঘদিনের। দিনরাত পরিশ্রম করে ফসল ফলালেও সঠিক প্রক্রিয়াকরণ ও বাজার ব্যবস্থার অভাবে তারা বঞ্চিত হন ন্যায্য মূল্য থেকে। কৃষকদের এই নীরব কান্না স্তব্ধ করতে প্রতিমা ভৌমিক সোচ্চার হয়েছেন। ২০২৩ সালের সরকার প্রেরিত ডিপিআর (DPR)-এর ভিত্তিতে উত্তর-পূর্ব পর্ষদ (NEC) বা MDoNER প্রকল্পের মাধ্যমে এই ৪টি স্থানে অবিলম্বে গ্রামীণ কৃষি বাজার গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে কেবল কৃষক পরিবার নয়, গ্রামীণ অর্থনীতি পরিচালনাকারী স্বসহায়ক দলের (SHG) নারীদের ভাগ্যও বদলে যাবে।

আরও পড়ুন:  ১ ডিসেম্বর থেকে রাজভবন লোকভবন নামে পরিচিত হবে!

একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক ভারতে দাঁড়িয়েও সিপাহীজলার মোহনভোগ ব্লকের চন্দুল, জগৎরামপাড়া, উলুখলা (তাইবান্দাল), কালিকলা, নিদয়া ও ভবানীপুরের মতো সীমান্ত জনজাতি এলাকাগুলো এখনও মোবাইল নেটওয়ার্কের বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত। জরুরি চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মুমূর্ষু রোগীকে প্রাণ হারাতে না হয়, আর পাহাড়ি ছাত্রছাত্রীরা যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়—এই মানবিক আকুতি থেকে তিনি ‘পিএম-জনমন’ (PM-JANMAN) প্রকল্পের অধীনে জরুরি ভিত্তিতে দুর্গম গ্রামগুলোতে মোবাইল টাওয়ার স্থাপনের জোরালো দাবি পেশ করেন। বৈঠকের পর এক আবেগপ্লুত বার্তায় প্রতিমা ভৌমিক জানান, “ত্রিপুরার প্রান্তিক ও পাহাড়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার জীবনের আসল উদ্দেশ্য। কোনো রাজনৈতিক পদ আমাকে তাদের থেকে দূরে রাখতে পারবে না। শ্রদ্ধেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জি প্রতিটি বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে আশ্বস্ত করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, খুব শীঘ্রই এই বঞ্চিত মানুষগুলো তাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবে।” দিল্লির অলিন্দে যেভাবে তিনি রাজ্যবাসীর অধিকার আদায়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তা প্রমাণ করে প্রতিমা ভৌমিক কেবল একজন নেত্রী নন; তিনি ত্রিপুরার প্রতিটি পরিবারের এক আস্থার অভিভাবক।

আরও পড়ুন:  জোলাইবাড়ী পিলাক ট্যুরিস্ট লজে প্রাণিসম্পদ বিকাশ উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে National Livestock Mission এর অধীনে এক দিনের Block Level Awareness cum Workshop অনুষ্ঠিত হয়!

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment